স্টাফ রিপোর্টার ॥
আইএসপিআর এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশিদুল হাসান বলেছেন, সিলেটের আতিয়া মহল নামের ওই ভবন থেকে এখানো থেমে বিস্ফোরণের আওয়াজ আসছে। তাই কমান্ডো অভিযান কখন শেষ হবে সে বিষয়ে কোন ধারণা দেয়া যাচ্ছে না। তবে, জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আশা করা যাচ্ছে না। কারণ অভিযানের সময় কমান্ডোরা দেখেছেন, জঙ্গিদের গায়ে ‘সুইসাইডাল ভেস্ট’ পরা আছে। বোঝা যাচ্ছে তারা আত্মোৎসর্গের জন্যই অপারেশন চালাচ্ছে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গি অভিযান চতুর্থ দিনের মতো অব্যহত রয়েছে। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত দু’জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। এরইমধ্যে ওই ভবন থেকে প্রায় ৭৮ জন বাসিন্দকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্যদিকে অভিযান চলাকালেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অন্য জঙ্গিদের অতর্কিত বোমা বিস্ফোরণে পুলিশসহ অন্তত ৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ত্রিশোধিক। এরপর থেকে ওই এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, আতিয়া মহলে আরো জঙ্গি থাকতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতিতেও কেন এ অভিযান নিষ্পত্তি ঘটানো যাচ্ছে না?
এ প্রসঙ্গে আইএসপিআরÑ এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশিদুল হাসান বলেন, এখনও বাইরে থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে। কারণ, ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ‘এক্সপ্লোসিভ’ বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক পেতে রাখা হয়েছে। এজন্য বাইরে থেকে তাদের অন্যভাবে ‘এঙ্গেজ’ করার চেষ্টা করা হচ্ছে’। পাঁচতলা ওই বাড়িতে ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবন থেকে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে গিয়ে কমান্ডোরা দেখেছে যে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় ‘এক্সপ্লোসিভ’ লাগানো আছে। যারা কারণে খুব কৌশলে কাজ করতে হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট কর্ণেল রাশিদুল হাসান জানান, ভবনের ভেতরে যে জঙ্গিরা আছে তারা বেশ প্রশিক্ষিত। তাদের বের হয়ে আসতে বললেও তারা তা করেনি। এছাড়া বাড়ির বাইরে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেনেড লক করে ছুঁড়ে দিলে তারা আবার সেটিকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। কর্নেল রাশিদুল হাসান বলেন, তারা ‘এক্সপ্লোসিভ’ তৈরিতে ও লাগানোতে বিশেষভাবে দক্ষ বলে মনে হচ্ছে।
অভিযান বিষয়ে সামক্য বর্ণনা ও পরিস্থিতি সম্বন্ধে তিনি বলেন, কমান্ডোরা জঙ্গিদের পর্যদুস্ত করতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করেছে। ভবন ছিদ্র করে ঢোকার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়। তারপর ভবনের কয়েকটি জায়গায় বিস্ফোরক লাগিয়ে চেষ্টা করলেও কাজে আসেনি। এরপর ঘরের ভেতরে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হলেও জঙ্গিদের দৌড়াতে দেখা যায়। তারপর কমান্ডোরা গুলি ছুঁড়ে।

