স্টাফ রিপোর্টার ॥ সব ধরনের বোতলজাত সয়াবিন ও খোলা তেলের দাম কমেছে। কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। তবে গরুর মাংস, গুঁড়াদুধ ও চালের দাম বেড়েছে আবারও।
বুধবার নগরীর কারওয়ানবাজার, নিউমার্কেট, মালিবাগ, পলাশী কাঁচাবাজার, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার, আজিমপুর ও মহখালী কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
কারওয়ানবাজারে সব ধরনের সয়াবিন তেলের দাম কমেছে। বোতলজাত প্রতিলিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১২৮ টাকা দরে। প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে কমেছে ৩ টাকা। এছাড়ার ৫লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রকারভেদে ৬১০ থেকে ৬১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ৫ লিটারে কমেছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।
তবে কমে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন, পাম ও সুপার পাম অয়েল। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল (লুজ) বিক্রি হচ্ছে ১০৬ থেকে ১০৮ টাকা দরে। এছাড়া প্রতি লিটার পাম অয়েল ৭২ ও সুপার পাম অয়েল ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি দেশি ও আমদানি নির্ভর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা। মহাখালী কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫ ও ভারতীয় ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মহাখালীর মুদি দোকানি শাহ জামাল বলেন, গতকালের (মঙ্গলবার) চেয়ে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। কেজিপ্রতি ভারতীয় পেঁয়াজ ১০ টাকা কমে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। সেগুনবাগিচায় প্রতিকেজি গরুর মাংস ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল রয়েছে খাসির মাংসের দাম। প্রতিকেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি দেশি মুরগী ২৬০ ও পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা দরে।
স্থিতিশীল আছে চিনি ও লবণের দাম। প্রতিকেজি চিনি ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি প্যাকেটজাত চিকন লবণ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা দরে। বেড়েছে দেশি ও চায়না আদার দাম। প্রতিকেজি চায়না ও দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।
রমজানের পর থেকে সব ধরনের ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
সবজির দাম গত সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা। মালিবাগ কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি পটল ৩০, কাঁচামরিচ ৮০, টমেটো ৮০, বেগুন ৫০ থেকে ৬০, কচুর লতি ৩০ থেকে ৪০, পেঁপে ২০, গাজর ৬০, ঝিঙা ৪০, চিচিঙা ৪০, শিম ৮০, মুলা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ ৫০, বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে আলুর দাম। প্রতিকেজি আলু ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশ ছাড়া সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বাজার ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। আজিমপুর কাঁচাবাজারে ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। এছাড়া এককেজি ওজনের একটি ইলিশ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে গুঁড়াদুধের দাম। পলাশী কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি ডিপ্লোমা গুঁড়াদুধ ২৫ টাকা বেড়ে ৬৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ডানো গুঁড়াদুধ ৩০ টাকা বেড়ে ৬৬৫ ও মার্কস গুঁড়াদুধে ২০ টাকা বেড়ে ৫৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কমেছে নিডো গুঁড়াদুধের দাম।
আবারও কমেছে আটা ও ময়দার দাম। দুই কেজি ওজনের প্যাকেটজাত আটায় ৮ টাকা কমে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের প্যাকেটজাত ময়দায় ২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়।
তবে কাঁচাবাজারে এখন ক্রেতাদের অস্বস্তির অপর নাম মোটা ও চিকন চাল। প্রকারভেদে কেজিপ্রতি কোনো কোনো চালে ৪ থেকে ৫ টাকা আবার কোনো চালে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
পলাশী কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি মোটা ইরিতে ৭ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ভালো মানের মিনিকেটে ৩ টাকা বেড়ে ৪৮, মাঝারি মিনিকেটে ৪ টাকা বেড়ে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি আটাশ চালে ৪ টাকা বেড়ে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিআর-২৯ চালে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। মোটা স্বর্ণায় বেড়েছে ৬ টাকা। এখন ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ময়মনসিংহের বিরয় চালে ৬ টাকা বেড়ে এখন ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের পর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ভালো মানের নাজিরশাইল চালে। কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে এখন ৫৮ দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম বাড়ার জন্য পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা চালকল মালিকদের দোষারোপ করছেন।
পলাশী কাঁচা বাজারের চাল বিক্রেতা খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছি এখন সব ধান চাল মালিকের হাতে। এখন তারা সুযোগ পেয়ে বেশি দামে চাল বাজারে ছাড়ছে।
চালের দাম বাড়া প্রসঙ্গে কথা বলেছিলাম কুষ্টিয়া পোড়াদহের রশিদ অ্যাগ্রোফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক ইসমাইলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলা মণ (সাড়ে ৩৭ কেজি) ধান এক হাজার ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ৭০ টাকা গাড়ি ভাড়া আছে। ধানের দাম বেশি তাই চালের দামও বেশি।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক চাষির ঘরে ধান না থাকলেও এখনও ফড়িয়া এবং আড়তদাররা ধান মজুদ করে রেখেছেন।
তিনি দাবি করেন, এখনও চাষির ঘরে ধান মজুদ রয়েছে।
কমছে পেঁয়াজের ঝাঁঝ, বেড়েছে গরুর মাংস ও চালের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সব ধরনের বোতলজাত সয়াবিন ও খোলা তেলের দাম কমেছে। কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। তবে গরুর মাংস, গুঁড়াদুধ ও চালের দাম বেড়েছে আবারও।
বুধবার নগরীর কারওয়ানবাজার, নিউমার্কেট, মালিবাগ, পলাশী কাঁচাবাজার, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার, আজিমপুর ও মহখালী কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
কারওয়ানবাজারে সব ধরনের সয়াবিন তেলের দাম কমেছে। বোতলজাত প্রতিলিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১২৮ টাকা দরে। প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে কমেছে ৩ টাকা। এছাড়ার ৫লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রকারভেদে ৬১০ থেকে ৬১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ৫ লিটারে কমেছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।
তবে কমে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন, পাম ও সুপার পাম অয়েল। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল (লুজ) বিক্রি হচ্ছে ১০৬ থেকে ১০৮ টাকা দরে। এছাড়া প্রতি লিটার পাম অয়েল ৭২ ও সুপার পাম অয়েল ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি দেশি ও আমদানি নির্ভর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা। মহাখালী কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫ ও ভারতীয় ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মহাখালীর মুদি দোকানি শাহ জামাল বলেন, গতকালের (মঙ্গলবার) চেয়ে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। কেজিপ্রতি ভারতীয় পেঁয়াজ ১০ টাকা কমে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। সেগুনবাগিচায় প্রতিকেজি গরুর মাংস ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল রয়েছে খাসির মাংসের দাম। প্রতিকেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি দেশি মুরগী ২৬০ ও পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা দরে।
স্থিতিশীল আছে চিনি ও লবণের দাম। প্রতিকেজি চিনি ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি প্যাকেটজাত চিকন লবণ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা দরে। বেড়েছে দেশি ও চায়না আদার দাম। প্রতিকেজি চায়না ও দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।
রমজানের পর থেকে সব ধরনের ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
সবজির দাম গত সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা। মালিবাগ কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি পটল ৩০, কাঁচামরিচ ৮০, টমেটো ৮০, বেগুন ৫০ থেকে ৬০, কচুর লতি ৩০ থেকে ৪০, পেঁপে ২০, গাজর ৬০, ঝিঙা ৪০, চিচিঙা ৪০, শিম ৮০, মুলা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ ৫০, বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে আলুর দাম। প্রতিকেজি আলু ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশ ছাড়া সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বাজার ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। আজিমপুর কাঁচাবাজারে ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। এছাড়া এককেজি ওজনের একটি ইলিশ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে গুঁড়াদুধের দাম। পলাশী কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি ডিপ্লোমা গুঁড়াদুধ ২৫ টাকা বেড়ে ৬৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ডানো গুঁড়াদুধ ৩০ টাকা বেড়ে ৬৬৫ ও মার্কস গুঁড়াদুধে ২০ টাকা বেড়ে ৫৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কমেছে নিডো গুঁড়াদুধের দাম।
আবারও কমেছে আটা ও ময়দার দাম। দুই কেজি ওজনের প্যাকেটজাত আটায় ৮ টাকা কমে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের প্যাকেটজাত ময়দায় ২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়।
তবে কাঁচাবাজারে এখন ক্রেতাদের অস্বস্তির অপর নাম মোটা ও চিকন চাল। প্রকারভেদে কেজিপ্রতি কোনো কোনো চালে ৪ থেকে ৫ টাকা আবার কোনো চালে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
পলাশী কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি মোটা ইরিতে ৭ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ভালো মানের মিনিকেটে ৩ টাকা বেড়ে ৪৮, মাঝারি মিনিকেটে ৪ টাকা বেড়ে ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি আটাশ চালে ৪ টাকা বেড়ে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিআর-২৯ চালে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। মোটা স্বর্ণায় বেড়েছে ৬ টাকা। এখন ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ময়মনসিংহের বিরয় চালে ৬ টাকা বেড়ে এখন ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের পর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ভালো মানের নাজিরশাইল চালে। কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে এখন ৫৮ দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম বাড়ার জন্য পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা চালকল মালিকদের দোষারোপ করছেন।
পলাশী কাঁচা বাজারের চাল বিক্রেতা খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছি এখন সব ধান চাল মালিকের হাতে। এখন তারা সুযোগ পেয়ে বেশি দামে চাল বাজারে ছাড়ছে।
চালের দাম বাড়া প্রসঙ্গে কথা বলেছিলাম কুষ্টিয়া পোড়াদহের রশিদ অ্যাগ্রোফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক ইসমাইলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলা মণ (সাড়ে ৩৭ কেজি) ধান এক হাজার ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ৭০ টাকা গাড়ি ভাড়া আছে। ধানের দাম বেশি তাই চালের দামও বেশি।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক চাষির ঘরে ধান না থাকলেও এখনও ফড়িয়া এবং আড়তদাররা ধান মজুদ করে রেখেছেন।
তিনি দাবি করেন, এখনও চাষির ঘরে ধান মজুদ রয়েছে।

