বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিকদের প্রচুর সমাগম। আর প্রচন্ড ভিড়ে প্রবাসীদের সেবা দিতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়েছেন দূতাবাসের সকল শ্রেণীর কর্মকর্তারা। এরই মাঝে রিহায়ারিং ও ই-কার্ডের নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে হাই কমিশন মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষিত অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতার রি-হায়ারিং ও ই-কাড বৈধকরন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় মেশিন রিডাবল পাসপোর্ট করতে হঠাৎ করে দূতাবাসে প্রবাসীরা ভিড় করছেন। আর এ প্রচুর লোক সমাগমের মধ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাতে দ্রুত মেশিন রিডাবল পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে দূতালয়ের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার প্রত্যেকটি প্রদেশে চলছে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও পাসপোর্ট বিতরণ।
এ বিষয়ে গত কাল বুধবার এ প্রতিবেদকের সংঙ্গে আলাপ কালে হাই কমিশনার মহ: শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীদের সেবা প্রদানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা নিরন্তর কাজ করছেন। মালয়েশিয়ার প্রত্যেকটি প্রদেশে ছড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের হাতে ডিজিটাল পাসপোর্ট পৌছে দিতে এ প্রচেষ্টা। প্রতি মাসের শনি ও রবিবার দূতাবাসের এ মোবাইল টিমটি নতুন পাসপোর্টের আবেদন ও বিতরণ করছে বলে জানা তিনি।
মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমানে হাইকমিশনের কাজকর্মে আমূল পরিবর্তন এসেছে। কোনোভাবেই দালালদের আর হাইকমিশনের আশপাশে ঘেঁষতে দেয়া হচ্চে না। যার কারণে কর্মীরা এখন সিরিয়াল অনুযায়ী তাদের ডিজিটাল পাসপোর্ট তৈরি এবং পাসপোর্ট নবায়ন থেকে শুরু করে সবই হচ্ছে নিয়ম মোতাবেক। মোট কথা হাইকমিশনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী শ্রমিকবান্ধব হওয়ার কারনেই প্রবাসীরা দ্রুত সেবা পাচ্ছেন।
হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম তার নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত হওয়া হাইকমিশনের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিন দেখিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, হাইকমিশনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শ্রমিকেরা কোনো ধরনের দালাল ছাড়াই তাদের কাজ অল্প সময়ে শেষ করে চলে যেতে পারেন ইতোমধ্যে সেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শ্রমিক-বান্ধব হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগে হাইকমিশনে আসা শ্রমিকেরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত। এখন নতুন এ ভবনে শ্রমিকদের বসার জন্য জায়গা ভাড়া নিয়েছি। দালালদের উৎপাত প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, ১৫-২০ বছর ধরে যেসব শ্রমিক হাইকমিশন ঘিরে দালালি করত তারা এখন বলে বেড়াচ্ছে এ হাইকমিশনার আমাদের সর্বনাশ করে ফেলেছে। তিনি দাবি করে বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামি ছয় মাসের মধ্যে হাইকশিনের আশপাশে নয় পুরো দালাল চক্রকেই আমরা নির্মূল করতে পারব। হয়রানি বন্ধ হোক এটা এ দেশের সরকারও চায়। তার মতে, হাইকমিশনের দরজা জানালা সবকিছুই এখন ভিজ্যুয়াল। একজন আরেকজনকে সহজেই দেখতে পাবে। লুকোচুরির কিছুই নেই।
পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার প্রথম সচিব মশিউর রহমান জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসীরা সহজেই যাতে এমআরপি হাতে পান স্জেন্য বিভিন্ন প্রদেশে মোবাইল টিমের মাধ্যমে পাসপোর্ট বিতরণ ও নতুন আবেদন নেয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ শ্রমিকদের বেগ পেতে না হয়। প্রতিদিন দুই হাজার আবেদন ও দেড় হাজার পাসপোর্ট বিতরন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দূতাবাস ছাড়াও মোবাইল ক্যাম্পিংএ আগত প্রবাসীদের একদিনের মধ্যেই জন্মনিবন্ধন জমা নেয়া, ফিঙ্গার প্রিন্ট গ্রহণ ও ছবি তোলার কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ যেন এমআরপির আওতার বাইরে না থাকেন সে জন্য এ ক্যাম্পিং।
দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি এমএস কে শাহীন জানান, মোবাইল ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সব প্রবাসীর হাতে এমআরপি পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা অনেক দিনের।
তিনি আরও বলেন, দূতাবাসের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রায় দুই লাখের অধিক অবৈধ শ্রমিক বৈধতার আওতায় এসেছেন। এক মাসের মধ্যেই গ্রাহকের হাতে এমআরপি পাসপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করছে দূতাবাস।
বুধবার সরেজমিন দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকা পেনাং থেকে নতুন পাসপোর্ট আসা শ্রমিক জয়নাল জানান লাইনে দাড়িয়ে আছি। মালাক্কা প্রদেশ থেকে এসেছেন মোমিন। ভিতরে টুকেন নিয়েছেন মোমিন বলেন, টুকেন হাতে পেয়েছি আগে এই সিস্টেম ছিলনা শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভিজুয়েল কক্ষ সবই যেন মোমিনের কাছে ভাল লাগছে। তেরেঙ্গানু থেকে আসা ফিরোজুল নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়ে খুব খুশি।
নতুন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও হাইকমিশনার মহ: শহিদুল ইসলামের নির্দেশনার কারণেই তারা সহজেই কাংক্ষিত সেবা পাচ্ছেন বলে জানালেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
এ ছাড়া অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকদের ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ এর মধ্যেই বৈধ হবার সকল কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে ই-কার্ড ও রিহায়ারিং সম্পর্কে নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে দূতাবাস।
যারা সরাসরি রিহায়ারিং প্রোগ্রামে অংশ নিতে বা বৈধ হতে পারবেন-
যদি বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন, পাসপোর্ট আছে কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, কমপক্ষে ৬ মাস যাবৎ অবৈধ অবস্থায় কোন কোম্পানিতে কর্মরত থাকতে হবে, কোন অপরাধের রেকর্ড যদি না থাকে,৪৫ বছরের কম হতে হবে, পূর্বতন কোম্পানী কর্তৃক ইমিগ্রেশনে কোন অভিযোগ না থাকলে।
নিয়মাবলীঃ ক) যে কোম্পানীতে কাজ করেন সে কোম্পানির প্রতিনিধি কিংবা চিঠির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।
খ) ইমিগ্রেশন হতে ভিসা স্টিকার-প্রাপ্তি সাপেক্ষে লেভি শোধ করিতে হবে।
গ) রিহায়ারিং কর্মসূচির আওতায় বৈধতার মেয়াদ হবে ৩ থেকে ৫ বছর।
মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোম্পানী ব্যতীত অন্য কোন এজেন্ট, মিডলম্যান বা দালালের মাধ্যমে রিহায়ারিং কাজ না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
খরচঃ রিহায়ারিং-এ সর্বোচ্চ মোট খরচ প্লান্টেশন ও এগ্রিকালচার সেক্টরে ৩৫০০ রিংগিত এবং অন্যান্য সকল সেক্টরে ৪৭১৫ রিংগিত। রিহায়ারিং সর্মসূচির বিষয়ে যে কোন তথ্যাদি বা সমস্যার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ই-কার্ড কর্মসূচিঃ পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকলে কর্মরত কোম্পানির মাধ্যমে পূত্রাজায়া বা যে কোন প্রদেশের ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে সম্পূর্ন বিনামূল্যে ই-কার্ড করা যাবে। এ সুযোগ ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত চলমান থাকবে। ই-কার্ড পাবার পর পাসপোর্ট না থাকলে আপনাকে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট নিতে হবে এবং রিহায়ারিং এর কাজ সম্পন্ন করে বৈধ হতে হবে।

