স্টাফ রিপোর্টার ॥ খোদ ড.কামালের নিজ দল গণফোরামের নেতারাই মনে করছেন, তিনি সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। এনিয়ে তার দলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এমন দাবি করেছেন গণফোরামের এক শীর্ষনেতা।
বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে বাম-প্রগতিশীলদের নিয়ে জোট গঠনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন ড. কামাল হোসেন।
গণফোরাম সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিবে না এটা নিশ্চিত।
এদিকে বিএনপি এবং ১৮ দল নির্বাচনে অংশ নিবে না এটা ধরে নিয়েই ড. কামাল সরকার বিরোধী কথা বলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কাজ চলছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাম-প্রগতিশীলদের নিয়ে নতুন জোট সৃষ্টির।
সূত্র জানায়, এ জোটে থাকছেন রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, প্রয়াত নুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ (খালেকুজ্জামান)।
ড. কামালের এমন মনোভাবে সায় দিবে না মনে করে তার তৃতীয় জোটের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ও মাহমুদুর রহমান মান্নাকে।
অপরদিকে, নোবেল জয়ী ড. মুহম্মদ ইউনুস দল গঠনের পর ড. কামাল. বি চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না, আসম আব্দুর রব ওকাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্ময়ে জোট গঠনের প্রস্তাব দিলেও ‘বাঙ্গালী’ না ‘বাংলাদেশী’ জাতীয়তাবাদ প্রশ্নে এখনো তারা একমত হতে পারেননি। তবে আলোচনা থেমে নেই।
এদিকে বৃহস্পতিবার গণফোরামের আলোচনা সভায় এ নিয়ে প্রকাশ্যেই কাদের সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করেন ড. কামালের প্রতি।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনি রাজশাহী যান, সিলেট যান, চট্টগ্রাম যান, আমাদের আপনি একাবারের জন্য ডাকেন না। আমাদের নিতে তো আপনার গাড়ি পাঠাতে হবে না। আপনি বললে আমরা হেঁটেই আপনার আগে পৌঁছে যাবো।
এসব অনুধাবন করে এ মার্চেই ড. কামালের কাছ থেকে সরে গেছেন বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
আক্ষেপ নিয়ে গণফোরামের এক প্রেসিডিয়ামের সদস্য জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমরা গণফোরাম সৃষ্টি করেছিলাম। এক সময় এমপি ছিলাম। কারো দালালি করেনি। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেছি।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সেপ্টেম্বরের শেষে জাতীয় কনভেনশনও করবেন ড. কামাল হোসেন।
আওয়ামী লীগের দালালি করার জন্য একাংশ চলেও গেছে। তৃতীয় শক্তি গড়ার কথা বলে আমরা যদি আবার অপ্রকাশ্যে মানুষকে ধোঁকা দেই তাহলে শেষ বয়সে আর নিজেকে মুনাফেকি থেকে বাঁচাতে পারবো না। তাই দলে নিষ্ক্রিয়।
ড. কামালের জোটের বিষয়ে মহাজোটের শরীক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ড. কামাল হোসেন উদ্যোগ নিয়ে ১১ দল করেছিলেন। ১১ দল পরে ১৪ দলে পরিণত হয়। আমাদের সঙ্গে ওনার বোঝাপড়া ভালো ।
আগামীতে বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদমুক্ত রাখতে ড. কামাল হোসেন সাহেব জাতীয় কনভেনশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমরা আমাদের দলের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে যাবার বিষয়ে সিদ্বান্ত নিব। আমরা বাংলাদেশকে নিশ্চয়ই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন জোটের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। স্বাধীনতার ৪২ বছরেও দেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল পায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে যাবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে মোস্তফা মহসীন মন্টু জানান, নির্বাচন নিয়ে অশ্চিয়তা আগে দূর হোক। তারপর দেখা যাবে।

