স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ফাওয়াদ আহমেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। ফাওয়াদের বিয়ারের লোগো সংবলিত জার্সি না পরার সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছে তারা। তাকে ভবিষ্যতে এ লোগো সংবলিত জার্সি গায়ে না দিয়েই মাঠে নামার অনুমতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পাকিস্তানে জন্ম নেয়া এ লেগ স্পিনারের গত সপ্তাহে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচেই তিনি বিয়ারের স্পন্সর কোম্পানির লোগো সংবলিত জার্সি ছাড়াই মাঠে নামেন। প্রথম ম্যাচে কোন উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ২৫ রানে ৩ উইকেট লাভ করেন।
মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী মাদক সম্পূর্ণ হারাম (নিষিদ্ধ)। বিয়ার যেহেতু মাদক তাই তিনি তার প্রচার করতেও সম্মত হননি। তিনি বিয়ারের স্পন্সর কোম্পানি ‘ভিবি’র লোগো না পরার জন্য সিএ’ (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) কাছে আবেদন জানান। সিএ’র প্রধান ম্যানেজার মাইক ম্যাককেনা বলেন, ‘সিএ ফাওয়াদের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম ব্যাটসম্যান হাশিম আমলাও মুসলিম বিশ্বাসের কারণে বিয়ার কোম্পানির লোগো সংবলিত জার্সি পরিধান করেন না। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বিয়ার কোম্পানি ‘ক্যাসল’-এর চুক্তি রয়েছে। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতিক্রমে তিনিও ওই লোগো পরেন না। ইএসপিএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি বৈরাগী নই। তবে ইসলামী রীতিনীতি আমার জীবন পরিচালনা ও ক্রিকেটের উন্নতির ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে অনেক অবদান রাখে। আমি কখনও কোন মাদক গ্রহণ করি না। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময় মতো আদায় করি। এটি আমার দৈনন্দিন কাজে নিয়মানুবর্তিতা আনে। আমার জীবন ও খেলায় স্থিরতা ও প্রশান্তি আনে।’
একই কারণে ফুটবলাঙ্গনেও অনেক খেলোয়াড় এমন লোগো পরিহার করেন। সুদী কোম্পানি ‘ওঙ্গা’র লোগা না পরার সিদ্ধান্তে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের নিউক্যাসল স্ট্রাইকার প্যাপিস সিসের মাঠে না নামার ঘটনাও আছে। জুলাইয়ে এই মুসলিম খেলোয়াড়ের এমন সিদ্ধান্তের পর বিষয়টির সমাধান এখন হয়ে গেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের অনুরোধ ও তার ইসলামী শিক্ষকের পরামর্শে তিনি অনিচ্ছা সত্যেও এখন ওই লোগো নিয়েই মাঠে নামেন।

