মওদুদেরমত আইনজীবী ৩৬ বছর বেআইনিভাবে বসবাসে জনগণ হতাশ : মঞ্জুরুল ইসলাম

প্রকাশিত: June 8, 2017 | সময়: 2:37 pm

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
মুওদুদ সাহেবের বাড়ি ছাড়ার মধ্যে যে, রাজনীতি নেই সেটা আমি অস্বীকার করবো না। কিন্তু আমার উল্লেখ করার বিষয় হলো, মওদুদ সাহেবে এক সময় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এমনকি তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি একাধিকবার আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পাল করেছেন। এমনকি তিনি বাংলাদেশের অন্যতম  শ্রেষ্ঠ আইনজীবীর মধ্যে এক জন। তারমতো এমন একজন আইনজীবী যদি ৩৬ বছর ধরে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে একটি বাড়িতে থাকেন। সেটাকি কোনো দেশের নাগরিক মেনে নিতে পারে? এটা  বরং আমাদেরকে হতাশ করেছে এবং যারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাদেরকেও হতাশ করেছে বলে মন্তব্য করেন ডিবিসি নিউজের প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম।

ইন্ডিপিন্ডেন্ট টিভির ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, সুপ্রীম কোর্টে তিনি নিজেই মামলাটি লড়েছেন। মামলা লড়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে রায়ে পরে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের মত সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সেটাও কিন্তু আমাদের একটু অবাক করেছে।

কারণ তিনি জানেন যে, আপিল ডিভিশনের রায়ের পরে আর কোনো সুযোগ নাই। সেই হিসেবে হয়তো যদি তাকে নোটিশ দিয়ে বিদায় করা হতো তাহলে আমরা সম্মানিত বোধ করতাম। যে, দেশের একজন জাতীয় নাগরিক নেতা সুপ্রীম কোর্টের রায়ের পরপরও নোটিশ দিয়ে বিদায় করা হয়েছে। কিন্তু তিনি যদি নিজেই বাড়ি ছাড়ার জন্য সময় চাইতেন তাহলে আমরা আরও খুশি হতাম। কিন্তু সে সময় চায়নি যেখানেই আমাদের আরও হতাশ করেছে।

এখন এখানে প্রশ্ন আসছে যে, একটা নোটিশ দিয়ে কেনো তাকে বাড়ি ছাড়া করা হলো না। কিন্তু এখানে আমার কথা হলো মওদুদ সাহেবতো এখানের কোনো পার্ট না। কারণ, তিনিতো ভারাটিয়া। এখন বাড়িওয়ালা তাকে কেনো নোটিশ দেয়নি সেটা বাড়িওয়ালার বিষয়। সেখানে কেনো এমন প্রশ্ন আসবে?

মঞ্জুরুল ইসলাম আরও বলেন, মওদুদ সাহেব যে বাড়িটিতে থাকতেন সেটা এখনো পরিত্যক্ত সম্পত্তি। মূল মালিকের এখনো কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে এতদিন মওদুদ সাহেব নিজের বলেই চালিয়ে থেকেছেন। এমন অনেকগুলো অনৈতিক কাজ করেছেন মওদুদ সাহেব। তিনি অনৈতিক কাজের পাহাড় গড়েছেন। তাই আমার খুবই লজ্জার সাথে বলতে হচ্ছে যে, তারমত একজন বিশিষ্ট আইনজীবী যে ধরণের আইনে‘ব্যত্যয় ঘটিয়েছে তা বাংলার জনগণ কোনো ভাবেই মেনে নিবে না বলেও আমি মনে করি।

এসময় তিনি বলেন, তবে আমি বলতে চাই যে, গুলশানের অধিকাংশ বাড়িগুলো কিন্তু পরিত্যক্ত সম্পত্তি। মওদুদ সাহেবের বাড়িটিও পরিত্যক্ত সম্পত্তি। ফলে আমাদের গুলশানে অনেক বাড়ির এমন মামালা আছে। এটাও যেনো রায়ের পরে মওদুদ সাহেবের মত তড়িৎ গতিতে বিদায় করা হয়। যেখানে তারা যতই  কর যত ক্ষমতাশীল ব্যক্তিই হোক না কেনো আইন যেনো সবার জন্য সমান হয়। যেমনকি  রেংস ভবনের ক্ষেত্রে কাজ করেছিল, যেমনিটি আমরা আশা করি বিজেএমইএ ভবনের ক্ষেত্রেও কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দিক থেকে আমরা অনেক তর্ক করতে পারি কিন্তু সত্যিকার অর্থে একজন আইনজীবী হিসেবে তার এই রায়ের ওপরে শ্রদ্ধা জানানো উচিৎ ছিল বলে আমি মনে করি। আমাদের সময়.কম