ঈদে বিএনপির তৃণমূলে ছিল ভোটের আমেজ

প্রকাশিত: July 2, 2017 | সময়: 10:12 am

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ঈদুল ফিতরে বিএনপির প্রায় সব নেতাই নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী জনসংযোগ করেছেন। ঈদের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সরগরম ছিল স্থানীয় বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা কয়েক দিন ধরে নিজ এলাকায় অবস্থান করে কর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রার্থিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বার্তা দিয়েছেন জেলা-উপজেলা-ইউনিয়নের নেতাদের। অনেকে দীর্ঘদিন এলাকায় না গেলেও এবার ঈদ করেছেন গ্রামে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দুই হাতে সাধ্যমতো নেতাকর্মীদের দিয়েছেন ঈদের বকশিস, পাঞ্জাবি-শার্ট। গরিবদের মধ্যে বিতরণ করেছেন জাকাতের কাপড়, সেমাই, চিনি ও টাকা। দোয়া চেয়েছেন এলাকার মুরুব্বিদির কাছে। খোঁজ-খবর নিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীদের। গিয়েছেন গুম-খুন হওয়া দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি।

এছাড়া অনেক নেতার ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার, ডিজিটাল ব্যানারে ছেয়ে গেছে এলাকা। নিজের এলাকায় অনেকে উঠোন বৈঠক করেছেন। শীর্ষ নেতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও ঈদের শুভেচ্ছা জানান পোস্টারে। ব্যানার-পোস্টারে দেখা যায় ঈদ শুভেচ্ছা ছাড়াও পছন্দনীয় নেতাদের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই লেখা। এছাড়াও জনগণের কাছে নেতাদের তুলে ধরতে কথামালার ফুলঝুরি ছড়াচ্ছে। অনেকেই এলাকার বাইরে ঈদের নামাজ আদায় করে গ্রামের বাড়িতে ছুটে গেছেন। নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়াও নানা পদের খাবারের আয়োজন করেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থী ছাড়াও জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতা কর্মীরাও দল বেঁধে পছন্দনীয় নেতার বাড়িতে হাজিরা দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা বিএনপি এবারের ঈদে অনেকটা নির্ঝঞ্জাটে ইফতার ও ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করে নেতাকর্মীদের কিছুটা চাঙা করে তোলার চেষ্টা করেছে।

খুলনায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় কর্মীদের জন্য ভোজের আয়োজন করেন। চট্টগ্রামে চার নেতা বড় আয়োজনে মেজবানির আয়োজন করেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন গরু জবাই করে নেতাকর্মীদের খাবারের আয়োজন করেন। রাজশাহীতে কয়েকটি থানায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা গরু জবাই করে ভোজের আয়োজন করে। ঢাকা, রংপুর, বরিশাল, সিলেটেও ছিলো একই আয়োজন।

গত ১৪ জুন রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নির্বাচনী গণসংযোগের জন্য নিজ নিজ এলাকায় যেতে বলেন। ভোটারদের সাথে সম্পর্ক গভীর করতে নির্দেশ দেন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঈদের সময় জনগণের কাছে যাওয়ার একটা বিরাট সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে বিএনপি। বিএনপি নেতারা এলাকায় জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করবে এটাই স্বাভাবিক।

এদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও এগিয়ে চলছে বিএনপিতে। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তৃণমূলে নজর রাখছেন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে দলের নীতিনির্ধারণী মহল। ভোটের চিন্তা মাথায় রেখে জোটের মিত্র বাড়ানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। একইভাবে নানা কারণে দীর্ঘদিন দূরে থাকা নেতাদের দলে টানা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের মনোনয়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ অনেক এলাকায় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আর দলীয় আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে মারামারি ও সংঘর্ষেও লিপ্ত হচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অভিযোগ তুলছেন এলাকায় নির্বাচনী তত্পরতা চালাতে গিয়ে কেউ কেউ ক্ষমতাসীনদের হামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতাদের নামে নতুন করে মামলা দায়েরের অভিযোগ করেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতার নামে গত এক সপ্তাহের ভিতরে বিভিন্ন অভিযোগে নতুন করে মামলা দায়েরের অভিযোগ করেছে দলটি।

এদিকে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিত্সার জন্য লন্ডন যাবেন। সেখান থেকে ফিরেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিবেন। তারপর আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি একসাথে চালানো হবে বলে দলের নেতারা জানান।