বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
এরশাদের নাম দিয়ে আজকের নতুন শিরোনাম তৈরি হচ্ছে। এরশাদ সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানি মানসিকতা সম্পণ্য একজন ব্যক্তি এবং সেই কারনে জিয়াউর রহমানের দৃষ্টি আকষণ করেছিলেন তিনি। এরশাদ ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে সুবিধা ভোগ করেছে। সে জানে কিভাবে উপরওয়ালাকে ডাকতে হয় আবার কিভাবে নিচের তলার মানুষকে ব্যবহার করতে হয়। এই গুলো সে প্রমাণ করেছে। ইতিহাসের বিশ্লেষণে আমি দেখতে পাচ্ছি। আর সেই ভাবেই ইতিহাসের উঠতে শুরু করেছিলো।
বুধবার রাতে ডিবিসি নিউজের রাজকাহন অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জাসদ সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল ও মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাসির উদ্দিন।
অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাকে যে সন্দেহ করে আমি তাতে বিশ্বাসি না আমি দেখবো তথ্য আছে কিনা। আর আমার কাছে যে সব তথ্য আছে তাতে প্রমাণ করা সম্ভব যে এরশাদ জিয়া হত্যার সাথে জড়িত ছিলো। এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন কিন্তু বলতো যে আমার হাতে রক্তের দাগ নেই অথাৎ বিষয়টা এমন ঠাকুর ঘরে কেরে আমি কলা খাইনি। তার কিছু কথার ধারণা থেকেই বোঝা যায় জিয়া হত্যার সাথে তার সম্পৃকত্তা ছিলো। এরশাদের দাবি করে ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে বিচারপতি সাত্তার নাকি তার উপর জোর করে দেশ পরিচালনার ক্ষমতা চাপিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রস্তুত ছিলাম না, কারণ দেশ পরিচালনা করা সহজ ব্যাপার নয়। এটা আমি উপলব্ধি করি। আমি ক্ষমতা নিতে চাইনি। কিন্তু কোনো উপায় ছিল না, ক্ষমতা নিতে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে এই দায়িত্ব আমাকে গ্রহণ করতে হয়েছিল।’’ কিন্তু তার আগে থেকেই এরশাদের ক্ষমতার প্রতি একটা লোভ ছিলো আর তাই তিনি সেটি করার জন্য বিভিন্ন ভাবে এমন একটি চাপ সৃষ্টি করেছিলো সাত্তরের উপরে যাতে এরশাদ ক্ষমতা দক্ষল করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলকারী এরশাদ ২০১৪ সাল থেকে মন্ত্রীর পদ মর্যাদায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে আছেন। দেশের দুর্বল গণতন্ত্রের কারণেই এরশাদ আজ তার বর্তমান অবস্থানে আছেন। তার স্ত্রী হয়েছেন সংসদে বিরোধী দলের নেতা। দলের তিন জন এমপি মন্ত্রী হয়েছেন। দেশের জন্ডিসে আক্রান্ত রাজনীতি সুস্থ না হলে আগামী দিনগুলোতেও এরশাদ এমন অনেক আজগুবি নতুন নতুন ইতিহাস রচনা করবেন। একজন পতিত স্বৈরাচার ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত না হয়ে বরং নিজে লিখে যাবেন সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের নতুন ইতিহাস। আমাদের সময়.কম

