চতুর্থ সংশোধনী ছিল সামরিক শাসনের চেয়েও জঘন্য : জাফরুল্লাহ

প্রকাশিত: August 7, 2017 | সময়: 1:14 pm

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায়।এ ধরনের একটি সাহসী রায় দিয়ে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা সাম্প্রতিকালের শ্রেষ্ঠ বিচারকের সুনাম কুড়িয়েছেন বলে জানান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রবিবার রাতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোটাল আরটিএনএনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, পাকিস্তান আমলের বিচারপতি মোর্শেদ যেমন যুগান্তকারী রায় দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছিলেন তেমনি সিনহা সাহেবও ইতিহাসে নাম লিখাতে যাচ্ছেন। এ জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে শুধু সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলই করা হয়নি, এর মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃতিত্বকেও স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কেননা, জিয়াউর রহমান সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে যে একটি মহৎ কাজ করেছিলেন সেটিই এই রায়ে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে এবং জিয়াকে সম্মানিত করা হয়েছে।

ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, শেখ মুজিবের আমলে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল কায়েম ছিল সামরিক শাসনের চেয়েও জঘন্য। সে ব্যাপারে কখনো কোনো বিচারপতি কোনো কথা বলেননি। অতীতে জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনের বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হলেও চতুর্থ সংশোধনী বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে বিচারবিভাগের উচিত চতুর্থ সংশোধনীটিও বিশ্লেষণ করে দেখা এবং কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়া।

বরেণ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী মুহিত যে ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এটা খুবই দুঃখজনক ও মন্দ নজীর। এটা তার বড় ভুল। এ ব্যাপারে বিচারবিভাগের কিছু করার আছে।

সবশেষে তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় সত্যিকার অর্থে একটি ঐতিহাসিক রায়। এর মাধ্যমে জাতিকে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে নতুনভাবে উৎসাহ যোগাবে।-তথ্যসূত্র : আরটিএনএন