সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ, বড় ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশিত: August 23, 2017 | সময়: 10:50 am

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
দুই দফা বন্যায় প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ২১৯০টি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ১২৮৯টি। এসব প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ও ভৌত অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৩ জেলায় শিক্ষায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক, ভৌত অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি সবকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। প্রথম দফায় বন্যায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৩০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় দফায় এই ক্ষতির পরিমাণ আড়াইশ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ জানা না গেলে প্রায় কাছাকাছি হওয়ার আশষ্কা করছেন কর্মকর্তারা।

বন্যায় সাধারণত চর ও গ্রাম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে এসব এলাকায় ক্ষতির পরিমাণও বেশি থাকে। জুন-জুলাইয়ে প্রথম দফা এবং আগস্ট দ্বিতীয় দফায় বন্যায় একাডেমিক ক্ষতি প্রভাব পড়বে আসন্ন প্রাথমিক সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায়। কারণ টানা তিন মাস কোনো না কোনোভাবে ক্লাস বন্ধ ছিল। বন্যার কারণে যেমন স্কুল বন্ধ তেমন বাড়িতেও পড়াশুনা বন্ধ ছিল। এর প্রভাব পরীক্ষায় পড়বে। এজন্য বন্যাকবলিত গ্রাম ও শহরের মধ্যে ফলাফলের ব্যবধান আরো বেড়ে যেতে পারে। তবে এই ক্ষতি পোষাতে নানা পদক্ষেপের কথা বলছেন কর্মকর্তারা। শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মেরামতের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া হবে। স্থানীয় কর্মকর্তা, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক প্রতিনিধিরা শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাসের বিষয়টি নজরদারি করবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২৩টি জেলায় দুই হাজার ১৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কোটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহ্নত হচ্ছে। আর মাধ্যমিকে ১ হাজার ১৫টি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৭৪টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপ-পরিচালক ড. নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, বন্যা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কত প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ তা বলা মুশকিল। সোমবার পর্যন্ত ২১৯০টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য আমরা পেয়েছি। এটা প্রতিদিন কমছে বাড়ছে। আর অবকাঠামো ক্ষতির এবার সবচেয়ে বেশি হওয়ার শষ্কা করছেন তিনি।

মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর এলিয়াস হোসেন বলেন, আমরাও প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করছি। গতকাল পর্যন্ত মাধ্যমিকে ১০১৫ আর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৭৪টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ বলে তথ্য পেয়েছি। তার মতে এবার কয়েক দফায় বন্যায় একাডেমিক ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য গ্রাম ও শহরের ফলাফলে পার্থক্য আরো বেড়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলছে। আর মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। সৃষ্ট এই বন্যায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানার জন্য বেশ কিছু দপ্তর অবিরাম কাজ করছে। কিন্তু বন্যার পানি এখনো না নামায় ঠিকঠাক ক্ষতির হিসাবও নিরূপণ করা যাচ্ছে না। তবু বসে নেই কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাঠাতে। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ সকল নির্বাহী প্রকৌশলীদের চিঠি দিয়ে বলেছে, বন্যার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরে পাঠাতে। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো ক্ষতির বিষয়টি দেখভাল করে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর।
এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালা বলেন, অর্থ চাওয়ার বিষয়টি এখন ঠিক হয়নি। কারণ প্রথম দফায় ১৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা অ্যাসেসম্যান্ট করেছি। দ্বিতীয় দফায় কত হয়েছে সেটি এখন নিরূপণ করা হয়নি। দুটি একসঙ্গে নিরূপণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া হবে। মানবজমিন