আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা চরমে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার দিবাগত রাতে নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমার সীমান্তে রাতভর গুলির আওয়াজ শোনা গেছে। যদিও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টির কারণ সম্বন্ধে কিছু জানা যায়নি।
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সর্বশেষ সহিংসতার পর সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমরা পালিয়ে আবারও বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন। হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।
রোহিঙ্গা সহিংসতা নিয়ে টেকনাফের স্থানীয় সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, গতকাল দিনেও গুলির শব্দ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। সন্ধ্যার কিছু পরেই ওই একই স্থানে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। মিয়ানমারের বুশিডং এলাকার একজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাতে সেখানে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে কোন আগুন দেখা যায়নি। মংদু শহরে কয়েকটি মসজিদ এবং মাদ্রাসার মধ্যে আগুন দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নতুন করে নির্যাতন-নীপিড়নের ফলে আশ্রয় নিতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ চেষ্টা করছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। গত তিনদিনে কোস্টগার্ড সদস্যরা টেকনাফের পয়েন্ট দিয়ে ৬৭ জন রোহিঙ্গা-নারী পুরুষদের ফেরত পাঠায়। শুক্রবার প্রথম দফায় বিজিবি ১৪৬ জন ফেরত পাঠায়, পরের দিন পুলিশের সহায়তায় ১৭ জন এবং গত রাতে উঁখিয়ার একটি রাস্তা থেকে ১৬৭ জনকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এখনো হাজার হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। মিয়ানমারের গোলাগুলির কারণে তাদেরকে সেখানে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না।

