বাসস্থান ও খাবার সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে দিনাজপুরের বন্যা দূর্গতরা

প্রকাশিত: August 27, 2017 | সময়: 12:22 pm

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
বৃষ্টির আর ভারত থেকে আসা পানিতে সৃষ্ট বন্যায় দিনাজপুরের মানুষ হারিয়েছে সহায় সম্বল। স্মরণকালের এই ভয়াবহ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১৩ উপজেলা।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার মানুষ। খেটে খাওয়া মানুষের মাঠে নেই কোন কাজ। নিজেদের বাড়িঘর ধসে পড়ায় বসবাসের অবস্থাও নেই অনেকের। বন্যার কারণে দিনাজপুরে থাকা-খাওয়ার উভয় সংকটে দুর্গত এলাকার মানুষ। ফলে তাদের অভিযোগ ত্রাণ পর্যাপ্ত নয়। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী রয়েছে।

দিনাজপুরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বানভাসি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র এবং উঁচু স্থান থেকে বাড়িতে ফিরছে। কিন্তু জলমগ্ন কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। নিজের উদ্যোগে মাথা গোঁজার জন্য ধার দেনা করে মেরামত করছেন বাড়িঘর। ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জ্বলে ও পঁচে গেছে আমন রোপা। এ মুহূর্তে মাঠে কাজ নেই, অনেকের ঘরে খাবার নেই,সংকট বাসস্থানেরও। এ সম্পর্কে বন্যার্তরা বলেন, বন্যাতে মাঠের ধান শেষ, বাড়িঘরও নাই। খেয়ে না খেয়ে আছি। কাজ কাম নাই। খুব দুর্ভিক্ষে মধ্যে পরে আছি আমরা।

নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ধামাহাড়,মালঝার.চকরামপর গ্রামের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর। বন্যায় আক্রান্তরা বলেন, বাড়ি আর খুঁজেই পাচ্ছি না আমরা এমন ভাবে ভেঙ্গে গেছে। সব মাঠ হয়ে গেছে। কোন চিহ্ন নাই।
তবে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বন্যায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সামগ্রী,বাড়িঘর মেরামত ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এরই মধ্যে এক হাজার বান্ডিল ঢেউ টিন উপজেলা প্রশাসনে দিয়েছি। এছাড়া ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এগুলো দুস্থ মানুষের মধ্যে গৃহ নির্মাণ সহায়তার জন্যে দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে বন্যায় বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে ৫৯ হাজার। এ পর্যন্ত ত্রাণ দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৬শ ৫৭ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের ৫ হাজার প্যাকেট। সূত্র : সময় টিভি