বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গা সহিংসতা বন্ধে কেবলমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। কারণ মিয়ানমারের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় দেশগুলো এ নিয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
রোহিঙ্গাদের ওপরে সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টেনিও মিয়ানমার সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের নাগিরিকত্ব দেয়া, কাজের সুযোগ তৈরি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। একই ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে শরণার্থীদের অবস্থা সরজমিনে পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আসছেন তুরস্কের পররাষ্টমন্ত্রী। এর আগে ঢাকা সফর করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রসচিব।
রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আদৌ কী চাপ সৃষ্টি করতে পারে বা সম্ভব?
বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান বলেন, ‘মিয়ানমার এমন একটি সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত যেখানে আন্তর্জাতিক চাপকে তারা খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। সামরিক কর্তৃত্বের মাধ্যমে বল প্রয়োগ করে বিগত ৭০ বছর তারা দেশ এক করে রেখেছে। তাদের নিজস্ব প্রচুর সম্পদ আছে, এছাড়া জাতিসংঘ তাদেরকে ভেটো দেয়- কাজেই মিয়ানমার ভিন্ন রকমের দেশ। তারা খুব ঠান্ডা মাথায় রোহিঙ্গা নিধনের সিদ্ধান্ত বেছে নিয়েছে। ফলে তারা আন্তর্জাতিক চাপকে গুরুত্ব দেবে না।’
মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে কোন কৌশল নেই যা দিয়ে মিয়ানমারের ওপরে চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে?
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৌশল অবলম্বন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপরে চাপ সৃষ্টি করতে পারতো, যদি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কে এতো নিবীড়ভাবে জড়িত না হতো। চীন এবং ভারত উভয়ই মায়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছে। অনান্য দেশগুলোও এসব বিষয়ে খুব বেশি পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলো থেকে মিয়ানমারের ওপরে এক ধরণের চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, তা কতোটা ফল দেবে বলে মনে হয়?
জবাবে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার রাজনৈতিক আচরণগত দিক থেকে যেকোন চাপকে গুরুত্বহীনভাবেই দেখে। চাপ সৃষ্টির উপায় হতে পারে বাংলাদেশের সাথে ইন্দোনেশিয়া এবং তুরস্ক মিলে যদি সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয়। আমার মনে হয় তারা কেবল এ ভাষাই বুঝবে। আমাদের সময়.কম

