বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
আগামী বছরের শুরু থেকে উৎপাদনকৃত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) আর এখনকার কার্ডের মতো স্মার্ট থাকছে না। শুধু আকৃতিতেই বর্তমান কার্ডের সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাবে। অন্য অনুষঙ্গগুলোতে পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে কার্ডটির দীর্ঘস্থায়ীত্বের জন্য যে উন্নতমানের লেমিনেটিং পেপার ব্যবহার হতো, এখন থেকে আরেকটু কম মূল্যের (লেমিনেটেড) পেপারে এই কার্ডটি মোড়ানো থাকবে। একইভাবে, বর্তমানে স্মার্টকার্ড পরিচয়পত্রটির সঙ্গে একটি সুদৃশ্য খাম এবং খামের অভ্যন্তরে কার্ডটি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নির্দেশিকা সংবলিত একটি চিরকুট থাকত; আগামীতে সেগুলো বাদ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি বিতরণ কেন্দ্রে ২৫০টি কার্ডের জন্য আলাদা আলাদা বক্স নং দিয়ে সেগুলো সংরক্ষণ করা হতো, এর জন্য জনবল এবং জায়গাও বেশি লাগত। আগামী বছর থেকে এগুলো কমে যাচ্ছে। জাতীয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর অ্যানহান্সড অ্যাক্সেস টু সার্ভিস (আইডিয়া) প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, ফ্রান্সের ওবার্থু কোম্পানির সঙ্গে জুনে চুক্তির পরিসমাপ্তিতে ২৭ আগস্ট থেকে নিজস্ব ব্যবস্থায় স্মার্টকার্ড মুদ্রণ হচ্ছে। সরকারি অর্থায়নে এ কার্ড তৈরিতে ব্যয় সংকোচন নীতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গৃহীত নীতি বাস্তবায়িত হলে মোট খরচ থেকে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনার খসড়া তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চূড়ান্ত করে শিগগিরই তারা কমিশনের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করতে পারবেন। এর আগে কমিশনের মৌখিক নির্দেশনা নিয়ে এ কাজ শুরু করা হয় জানিয়ে তারা বলেন, ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে স্মার্টকার্ডের আকার কিংবা আকৃতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন হবে না। ভোটার নাগরিকের তথ্যও থাকবে অবিকল। শুধু অপরিহার্য নয়; এমন উপাদান স্মার্ট পরিচয়পত্র থেকে বাদ দেয়া হবে। এতে কোনো ক্ষতির শঙ্কা নেই। বরং সময়, জনবল এবং ব্যয় কমবে।
কারণ ইতিমধ্যে বিতরণ হওয়া সুদৃশ্য খামে মোড়ানো স্মার্টকার্ডটি সংশ্লিষ্ট ভোটার নাগরিক পাওয়ার পর খামটি সংরক্ষণে রেখেছে কিংবা নির্দেশিকাটি পড়ে দেখেছেন, এমন কোনো দৃশ্য তাদের বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসেনি। উল্টো কার্ডটি হাতে নিয়েই খামটি ফেলে দিয়েছেন খোলা ময়দানে। এতে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হয়েছে; তেমনি জায়গাটিতে ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। অথচ একটি খামের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬-৭ টাকা; ব্যয় হয়েছে নির্দেশিকার পেছনেও।
এদিকে, ফ্রান্সের ওবার্থু কোম্পানির সঙ্গে জুনে চুক্তির পরিসমাপ্তিতে ২৭ আগস্ট থেকে নিজস্ব ব্যবস্থায় স্মার্টকার্ড মুদ্রণ হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিনিয়োগ করা অর্থে মুদ্রণ ও বিতরণ চলবে স্মার্টকার্ডের। আসছে নতুন বছর অর্থাৎ জানুয়ারি মাস থেকে সরকারি অর্থায়নে প্রযুক্তিনির্ভর কার্ড ভোটার নাগরিকদের হাতে পৌঁছে দেবে নির্বাচন কমিশন। এর জন্য কত টাকা লাগবে সে সংক্রান্ত কোনো হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে, এর আগে সরকারের অর্থের অপচয় ও ব্যয় সংকোচনে নানামুখী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে আইডিয়া সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনকে ডেমোর মাধ্যমে তাদের ব্যয় সংকোচনের পুরো তথ্য-উপাত্ত দেখানো হবে।
এ বিষয়ে আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও এইআইডি উইংয়ের ডিজি ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘স্মার্টকার্ডের ব্যয় সংকোচনে একটা পর্যালোচনা চলছে। পর্যালোচনার মধ্যে কার্ডের খাম ও নির্দেশনা রাখা হচ্ছে না। এতেই আমাদের ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা সেভ হচ্ছে। কারণ কার্ডটি পাওয়ার পর খামটি ছিড়ে ফেলে এবং নির্দেশিকায় কি লেখা আছে তা পড়েও দেখে না। শুধু খাম থেকে কার্ডটি বের করে বলে সুন্দর হয়েছে। তবে, প্রস্তাবটি কমিশনে দেব তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেয়ার কথা ছিল। ২৫ মে পর্যন্ত মাত্র ১৮ লাখ নাগরিককে স্মার্টকার্ড দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র ২ শতাংশ কার্ড বণ্টন হয়েছে। এখন ৮ কোটি ৮২ লাখের বেশি নাগরিককে কার্ড দিতে হবে। যথাসময়ে কার্ডটি দেয়ার জন্য ফ্রান্সের অবার্থু টেকনোলজিসের সঙ্গে ২০১৪ সালে ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি করে ইসি। তাদের সঙ্গে চুক্তি ছিল ৯ কোটি কার্ডের। দফায় দফায় পিছিয়ে সেই কার্ড বিতরণ শুরু হয় ২০১৬ সালে। তাদের অনুরোধে প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বাড়ানো হয়। শুধু কার্ড নাগরিকদের মধ্যে বিতরণের জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। মেয়াদ বাড়ানোর পরও কোনো লাভ হয়নি; আগের অবস্থায় ছিল স্মার্টকার্ড মুদ্রণ ও বিতরণের কাজটি। পরে তাদের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করে নিজস্ব উদ্যোগে কার্ড মুদ্রণ হচ্ছে। আর নিজস্ব অর্থায়নে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে মুদ্রুণ ও বিতরণ চলবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে (এক হাজার ৪৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে) আইডিয়া প্রকল্প নেয়া হয়। বর্তমানে ইসির তথ্য ভাণ্ডারে ১০ কোটি ১৭ লাখেরও বেশি ভোটারের তথ্য আছে।
মানবকণ্ঠ থেকে নেয়া

