হত্যা পরিকল্পনা জেনে যাওয়ায় মরিয়া কিম জং উন

প্রকাশিত: October 11, 2017 | সময়: 3:10 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন পার্টির এক সাংসদের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার জানা গেছে গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত হ্যাকাররা হানা দেয় তার দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একটি ওয়েব সাইটে। এসময় ওই হ্যাকাররা প্রায় ২৩৫ গিগাবাইট সমপরিমান সামরিক তথ্য চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি করা ওইসব তথ্যের ৮০ শতাংশকেই এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এটা জানা গেছে যে, চুরি করা তথ্যগুলোর মধ্যে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনকে হত্যা পরিকল্পনার তথ্যও রয়েছে। আর ওই হত্যা পরিকল্পনার নেপথ্যে স্বয়ং আমেরিকা। কিম জং উনের বর্তমান বিধ্বংসী রূপ এবং আমেরিকা বিদ্বেষী মনোভব এরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, চুরি করা তথ্যের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার যৌথ সামরিক পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে, এর মধ্যে কিমকে হত্যা করার জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর পরিকল্পনাটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যেই দাবি করেছে, এ বছরের শুরুর দিকেই কিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া গং। দেশটির সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএন) বরাত দিয়ে জানা গেছে, সিআইএ পরিচালিত একটি অভিযানের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করে এক অতর্কীত ও গুপ্ত হামলায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে কিম জং উনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। তাই সাম্প্রতিক সন্ত্রাসের নেপথ্যে আমেরিকাকেই দায়ী করে সংবাদ সংস্থাটি। এছাড়াও তারা জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ‘পাপেট ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ বছরের মে মাসে কিমকে হত্যার জন্য আরও এবার চেষ্টা করেছিলো আমেরিকা।

কেসিএন আরও বলে, আমেরিকা অন্য দেশের সরকারকে উৎখাত করার জন্য নিমেষেই রং পরিবর্তন করে।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার একটার পর একটা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো আসলে তথ্য হ্যাকিংয়ের সূত্র ধরেই ঘটতে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিরোধ মেটানোর একটি ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এটি ওই ঘোষণা পর্যন্তই। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে ওই আহ্বানে কোন সাড়া দেওয়া হয়নি। আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কীত এমন কোনকিছুকেই আর বিশ্বাস করতে চানানা কিম। তথ্যসূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট, ডেইলি সাবাহ্