সরকারি স্বার্থ রক্ষায় সংবাদ সম্মেলন, কাপাসিয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি

প্রকাশিত: December 24, 2017 | সময়: 9:49 pm

স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুর : বৈধ ইজারাদারকে বালু উত্তোলন করতে না দিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় গাজীপুরের কাপাসিয়ার বানার নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি কুচক্রী মহল। রোববার বিকেলে গাজীপুরে একটি দৈনিক পত্রিকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ মর্মে অভিযোগ . করেন ইজারাদার মেসার্স রংধনু ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী এম.এইচ নোমান।
সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমি ১৪২৪ বঙ্গাব্দে গাজীপুর জেলাধীন কাপাসিয়ার বানারনদী বালু মহালের ইজারায় অংশ গ্রহণ করে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হই। এবং ইজারা মূল্য প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা জমা প্রদান করি। যার ইজারা কার্যক্রম মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশনের (নং ৩৪১৪/২০১৭) কারণে স্থগিত রয়েছে। অপরদিকে ময়মনসিংহের পাগলা থানার অধীনে বানার নদীর একটি অংশ ১৪২৪ বঙ্গাব্দে ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় ইজারা গ্রহণ করি। সেটির দখল প্রশাসন থেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ পর্যন্ত আমি বালু উত্তোলন করতে পারছি না অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কারণে। আমাকে বালু উত্তোলনে বিভিন্ন ভাবে হুমকি-দমকী দিচ্ছে। অথচ কতিপয় অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সন্ত্রাসী কায়দায় বানার নদীতে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করছে।

এম.এইচ নোমান আরো বলেন, বিষয়টি গাজীপুর জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করলে তিনি কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেন। ফলে চলতি বছরের ২১ জুলাই কাপাসিয়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। পরে টোক ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারি কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে বাদি করে বালু উত্তোলনকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করান। কিন্তু কাপাসিয়া থানায় ওই মামলা নং ২৬(৬)২০১৭ দায়ের হওয়ার পরেও বানার নদী থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ হয় নাই। বরং বর্তমানে পুলিশের সামনেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। আর প্রশাসন থেকে দায়ের করা মামলার কোন অগ্রগতি নেই। যার ফলে আমি বৈধ ইজারাদার হয়েও ব্যপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, শ্রীপুর উপজেলার বরমী এলকার জনৈক সন্ত্রাসী বাঘ বাদল বাহিনী ও পাগলা থানা এলাকার হারুন ডাকাত বাহিনী নিয়মিত অস্ত্রের মহড়া দিয়ে বানার নদীতে বালু উত্তোলন করছে। তাদের তান্ডব ও ত্রাস সৃষ্টির কারণে নদীর আশপাশ এলাকার লোকজন ভীত সন্ত্রস্ত। ফলে আমি বৈধ ইজারাদার হয়েও বালু উত্তোলন তো দূরের কথা বালু মহালে ঢুকতেও পারছি না। বরং প্রতিনিয়ত জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, গত ২১ ডিসেম্বর বিকেল চারটার দিকে তাঁর ভাড়া করা ‘আবির’ ড্রেজার কাপাসিয়া থানা এলাকার সিংহশ্রী খেয়াঘাট হতে কুড়িয়াদি/বরমী খেয়াঘাটে পৌছালে বাঘ বাদল ও হারুন ডাকাতের নেতৃত্বাধীন একদল সন্ত্রাসী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি ফাঁকা গুলি বর্ষণ করতে করতে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং ড্রেজারের লোকজনকে জিম্মি করে ড্রেজারের দখল নেয়। পরে ভাংচুর করে ড্রেজারটি নদীতে ডুবিয়ে দেয়। ড্রেজারটির আনুমানিক মূল্য ৫৫ লাখ টাকা। যা উদ্ধার করার জন্য নারায়ণগঞ্জ হতে আসা ডুবুরীদলও উদ্ধার কাজ করতে সন্তাসীদের জন্য ভয় পাচ্ছে। এ বিষয়েও তিনি গত ২৩ ডিসেম্বর কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ সম্বলিত একটি এজাহার দিয়েছেন। কিন্তু এখনও (সম্মেলন চলাকালে) তা মামলা হিসেবে গৃহীত হয়নি।

বালু মহালের ইজারাদার এম.এইচ নোমান বলেন, বর্তমানে গাজীপুরে কোন বালু মহালেই আমি ছাড়া আর কোন বৈধ ইজারাদার নেই। ফলে একটি চক্র আমাকে বালু মহাল থেকে হটানোর জন্য সর্ব প্রকার হীন কর্মকান্ড করে চলেছে। এতে সরকার রাজস্ব ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে। তাই নিজের ও সরকারি স¦ার্থ রক্ষার প্রয়োজনেই এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। আগের মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার না করে ছাড় দেয়ার কারণেই দিনদিন সন্ত্রাসীরা বড়াবাড়ির চূড়ান্ত করে চলেছে।

এদিকে দেখা যায়, এসি ল্যান্ড অফিস থেকে ইতিপূর্বে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির কারণে সরকারের দুই কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
ইজারাদার এম.এইচ নোমান বলেন, ওই মামলার অগ্রগতি বা কার্যকর আইনী প্রয়োগ না থাকার কারণে সরকারি স্বার্থহানী তো হচ্ছেই। এভাবে চললে অদূর ভবিষ্যতে কেউ বৈধভাবে বালু ব্যবসায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

কাজেই তিনি দাবি করেন, বানার নদী হতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সন্ত্রাসী বাঘ বাদল ও হারুন ডাকাতকে যেন যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনী প্রতিহত করে এবং সরকারি ও বৈধ ইজাদারের স্বার্থ রক্ষায় সঠিক দায়িত্ব পালন করে।