বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ঢাকা: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধান নদী বন্দর সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলমুখী নৌযানগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে মাত্রাতিরিক্ত সব ধরনের চাপ সামাল দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা নদী বন্দর ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
এক্ষেত্রে ঈদে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এখন পর্যন্ত একাধিক সভা করে কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে স্বয়ং নৌমন্ত্রী নিজেও একাধিকবার উপস্থিত ছিলেন। যখানে নৌমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করতে। প্রয়োজনে যাত্রীদের একাধিক দিনে গন্তব্যে পৌঁছানোর দিকে মনোযোগ দিতে বলেছেন মন্ত্রী। বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠিত এসব সভা থেকে নৌযান মালিক, পুলিশ, র্যাব, বিআইডব্লিওটিএ, ঢাকা জেলা পরিষদ ও ঢাকা নদী বন্দরের প্রতিনিধি নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সকল পদক্ষেপ কিংবা যেকোনো আদেশ সবার মেনে চলার প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
ঢাকা নদী বন্দর ও বিআইডব্লিওটিএ’র বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নৌপথে ঈদ যাত্রায় সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া সামগ্রিক কাজকে সহজতর করতে যাবতীয় কাজকে দুই ভাগে ভাগ করে নেয়া হয়েছে। এক অংশে থাকছে যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা বিধান এবং অপর অংশে থাকছে নৌযান চলাচল, তাতে যাত্রী উঠানো এবং নৌযান ছেড়ে যাওয়া।
সেদিকে খেয়াল রেখে ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর টার্মিনালে প্রবেশ ও টার্মিনালে অবস্থানের সময় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে ২৫০ জন নৌ-পুলিশ, ১৫০ জন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), র্যাবের আট জন করে ১৬ জনের দু’টি টিম, বিএনসিসি ক্যাডেটদের ৬০ জন সদস্য, ডিপিডিসি ৩৬ জন সদস্য কাজ করবে।
ইতোমধ্যেই যাত্রীদের সব ধরনের তথ্য সহজে জানাতে ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে টার্মিনালের প্রবেশমুখে একটি বড় পর্দা স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে সার্বক্ষণিক দিক নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক ভিডিও ও তথ্য প্রচার করা হবে। এতে প্রচারিত হবে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও।
এছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামলাতে কাজ করবে র্যাব, ডিএমপি ও নৌ-পুলিশ। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করবে তারা। এছাড়া ৬০ জন বিএনসিসি ক্যাডেট থাকবেন যাত্রীদের তথ্য
সহায়তার জন্য। এছাড়া বিএনসিসি ও ডিপিডিসি সদস্যরা অসুস্থ যাত্রীদের হুইল চেয়ার বা যেভাবে প্রয়োজন সেভাবে সহায়তায় নিজেদের নিয়োজিত করবে। এছাড়া অত্যাধিক যাত্রী চাপ বেড়ে গেলে বিভিন্ন গেট বন্ধ ও খোলার কাজও করবে সকল নিরাপত্তা কর্মী ও ক্যাডেটরা।
অপরদিকে, নৌযানের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এর পেছনে সার্বক্ষণিক কাজ করবে বিআইডব্লিওটিএ ও ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে সদরঘাটে যেসব কর্মকর্তারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদের প্রায় সবাই ঈদের আগের দুদিন একটানা ৪৮ ঘণ্টা কাজ করার মানসিকতা নিয়ে বন্দরে অবস্থান করবেন এবং ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই লঞ্চঘাট ছাড়বে কিন্তু তা যেন কোনভাবেই বিপদসীমা স্পর্শ না করে সেদিকে খেয়াল রেখেই কাজ করবেন তারা।
অধিক যাত্রী পরিবহনের স্বার্থে ঈদের আগে চলাচল করা সকল লঞ্চের যাতায়াত একমুখী করা হবে অর্থাৎ প্রতিটি লঞ্চ একবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে এবং তা গন্তব্যে পৌছার পর মাত্র ৩০ মিনিটের যাত্রা বিরতি শেষে ফের ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। ফলে কার্যত কিছু লঞ্চ বেশি পাবে যাত্রীরা এবং লঞ্চগুলোও বেশি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। এছাড়া সব টার্মিনালে সার্বক্ষণিক মাইকিং চালু থাকবে এবং যাত্রী পরিপূর্ণ হলেই ঘাট ছেড়ে যেতে বলা হবে তাদের। এক্ষেত্রে ঈদে সকল লঞ্চের নির্ধারিত সময় শিথিল করা হবে। লঞ্চে যাত্রীসংখ্যা পূর্ণ হলেই প্রতিটি লঞ্চকে পল্টুন ত্যাগে বাধ্য করা হবে। এছাড়া মাঝ নদীতে যাত্রী উঠানো বা নামানো রোধে ১৬ জন কোস্টগার্ড সময় ভাগ হয়ে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করবে।
এদিকে কর্তৃপক্ষের আদেশ বা আইন অমান্যকারীদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে তিন জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। যারা আইন বা নির্দেশ মানবেনা তাদের জেল ও জরিমানা করবে এসব কোর্ট।
ঈদের আগে এবং পরে বন্দরের সার্বিক দিক ও যাত্রী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন-পরিচালক (ট্রাফিক) আলমগীর কবির বাংলানিউজকে বলেন, ঈদে আমাদের অবশ্যই অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে হবে। কারণ ঈদে ২০-৩০ লাখ মানুষ হয় কিন্তু আমাদের লঞ্চের সংখ্যা মালিকানাধীন ২০৯ এবং বিআইডব্লিওটিএ এর ছয়টি। এই দিয়ে কোনভাবেই এতো বিশাল যাত্রী স্বাভাবিকভাবে পরিবহন সম্ভব নয়। তাই আমরা বেশ কয়েকটি করণীয় ঠিক করেছি। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী হলেও তা যেন স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে সেদিকে আমরা খেয়াল রাখব। প্রতিটি লঞ্চকে ওয়ান ওয়েতে কনভার্ট করে ঢাকা থেকে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করা হবে। এতে আমাদের লঞ্চ সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে এবং অধিক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।
এছাড়া যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে আর সহায়তার জন্য বিএনসিসি কাজ করবে বলে জানান তিনি।
বাংলানিউজ

