কোটা সংস্কার আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে ছিলেন গাজীপুরের মাহফুজুর

প্রকাশিত: July 8, 2018 | সময়: 9:44 pm

স্টাফ রির্পোটার ॥
কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান খানকে গ্রেফতার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঁচ দিন থাকার পর শুক্রবার বিকেলে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এখন গাজীপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে আছেন।
গত ১ জুলাই ভাষানটেকের মজুমদারের মোড় এলাকা থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের সঙ্গে মাহফুজুর রহমানকেও তুলে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। এরপর রাশেদকে গ্রেফতারের কথা গণমাধ্যমকে জানালেও মাহফুজুরের বিষয়ে কোনো তথ্য জানাননি পুলিশ কর্মকর্তারা।
যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তাঁর বাবা গত বছর মারা গেছেন। তাঁর ছোট ভাইয়ের একটি দোকান রয়েছে। এর আয় দিয়েই পরিবার চলে। মাহফুজুর একটি সংস্থা থেকে মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষাবৃত্তি পান।
মাহফুজুরের সঙ্গে গতকাল শনিবার মুঠোফোনে আলপকালে তিনি বলেন, ভাষানটেক থেকে গ্রেফতার হওয়া, ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং জামিনে মুক্তির পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন ৯ জুলাই শাহবাগ থানায় দায়ের করা ভাঙচুরের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মাহফুজুর বলেন, ওই দিন (১ জুলাই) রাশেদের শ্বশুরবাড়ির সামনে হঠাৎ করেই কয়েকজন ব্যক্তি হাজির হন। রাশেদের এক শ্যালক তাঁদের এ কথা জানালে তাঁরা ঘাবড়ে যান। পুলিশ ছাড়াও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী হতে পারেন ভেবে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। দৌঁড়ে একটি বাড়ির ছাদে উঠে পড়েন। পরে সেখান থেকে তাঁদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের হাতকড়া পরানোর পর বুঝতে পারেন এরা পুলিশের লোক।
রাশেদ ও মাহফুজুরকে একটি মোটরসাইকেলে করে প্রথমে ভাষানটেক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মাইক্রোবাসে করে গোয়েন্দা পুলিশের মিন্টো রোডের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
মাহফুজুর বলেন, মিন্টু রোডের কার্যালয়ে নেওয়ার পর তাঁকে ও রাশেদকে আলাদা করে ফেলা হয়। তাঁর মুঠোফোন, মানিব্যাগ এবং ঘড়ি রেখে দেওয়া হয়। এরপর একটি কক্ষে নিয়ে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চাওয়া হয়। পাসওয়ার্ড নিয়ে সবকিছু ঘেঁটে দেখেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার পর হাজতখানায় নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে তিনি আরও পাঁচ তরুণকে পান, যাঁদের শাহবাগ থেকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ধরে পুলিশের কাছে দিয়েছিলেন।
মাহফুজুর বলেন, পরদিন দুপুরে তাঁদের ছয়জনকে আদালতে তোলা হয়। আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে। ৪ ও ৫ জুলাই বাকি পাঁচজনের জামিন হলেও তাঁর জামিন হয়নি। ৬ তারিখ জামিন পান তিনি। নিয়ম অনুযায়ী সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পরদিন সকালে তাঁর বেরিয়ে আসার কথা থাকলেও তাঁকে একটি কক্ষে বিকেল চারটা পর্যন্ত বসিয়ে রাখে কারাগার কর্তৃপক্ষ। থানাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর ছাড়া হয়।
মাহফুজুর বলেন, ছাত্রলীগের ভয়ে ক্যাম্পাসে যেতে ভয় পাচ্ছেন তিনি। এমনকি গোয়েন্দাদের কাছে থাকা তাঁর মোবাইল, মানিব্যাগ ও ঘড়ি আনতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই নেতা বলছেন, শুধু একটি বৈষম্যের অবসান চেয়েই তাঁরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তাঁদের কোনো উচ্চাভিলাষ ছিল না, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল না। সাধারণ ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ দেখে তাঁরাও আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলেন। ছাত্রলীগের অনেক নেতা-কর্মী তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন, অনেকে যোগ দিতে না পারলেও সঙ্গে আছেন বলে সাহস দেন। কিন্তু এখন তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে যেন তাঁরা দেশদ্রোহী কাজ করেছেন। যে ছাত্রলীগ নেতারা আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন, এখন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরাই আন্দোলনকারীদের পেটাচ্ছেন। যেসব সাধারণ ছাত্র এক হয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তাঁরাও তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না।