বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
গাজীপুর: নারায়ণগঞ্জ থেকে জব্দ করা জাগুয়ার দুটি এখনো গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন জোনে রাখা হয়েছে। পার্কে এই প্রাণী দুটির বিশেষ আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় স্বভাবজাত আচরণে অভ্যস্ত হতে সমস্যা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত ১৪ জুন নারায়ণগঞ্জ থেকে জাগুয়ার শাবক দুটি জব্দ করার পর থেকে সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়।
সাফারি পার্কের কোর সাফারির বন্য প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রের পাশে গতকাল শনিবার পুরুষ ও স্ত্রী জাগুয়ার দুটিকে কোয়ারেন্টাইন জোনে (উদ্ধারের পর সাময়িকভাবে রাখার বিশেষ জায়গা) দেখা যায়। পুরো শরীরে কালো রঙের ছোপ ছাপ নকশা। অত্যন্ত হৃষ্টপুষ্ট জাগুয়ার দুটি ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করছে, খাবার খাচ্ছে। দর্শনার্থীর উপস্থিতি টের পেলে এক লাফে গ্রিলে এসে হুংকার ছাড়ে।
এর আগে বন অধিদপ্তর জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে জব্দ করা ওই প্রাণী দুটিকে বৈশিষ্ট্যগত কারণে জাগুয়ার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই প্রাণী দেশের বনাঞ্চলে পাওয়া চিতাবাঘের চেয়ে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের। রং ও আকারে চিতা বাঘের চেয়ে এরা ভিন্ন। এরা মূলত আমেরিকা মহাদেশীয় দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর প্রাণী।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, জাগুয়ার দুটির বয়স আনুমানিক দেড় থেকে দুই বছর। এরা প্রাপ্তবয়স্ক হতে আড়াই বছরের মতো সময় নেয়। সে ক্ষেত্রে এরা এখনই সন্তান জন্মদানে সক্ষম নয়। যেহেতু একটি স্ত্রী জাগুয়ার রয়েছে, সেহেতু উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এরা সন্তান জন্ম দিতে পারবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম মনিরুল এইচ খান বলেন, জাগুয়ার দুটি যেহেতু চোরাকারবারিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা, সেহেতু প্রকৃতি থেকে ধরা নয় বলেই মনে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে এরা আচরণগত বৈশিষ্ট্য ভুলে যাওয়ার কথা। এদের প্রাকৃতিক পরিবেশ দিতে হলে অনেক বড় দেয়ালঘেরা ঘর দরকার। এরা অধিক উচ্চতায় লাফতে পারে, গাছে চড়তে পারে, ফলে ঘরের দেয়ালের উচ্চতা যথেষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। ঘরের ভেতরে বড় বড় ঘন পাতার ও মোটা ডালের গাছ রাখতে হবে। এতে এরা প্রাকৃতিক পরিবেশের মতো অভ্যস্ত হয়ে যাবে। জাগুয়ারের প্রজনন সম্পর্কে তিনি বলেন, এরা প্রাপ্তবয়স্ক হলে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পেলে নতুন জাগুয়ার জন্ম দেবে বলে আশা করা যায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের কোয়ারেন্টাইন জোনে খাবার খাচ্ছে জাগুয়ার দুটি। সাদিক মৃধাবঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন,এদের বিশেষ পরিবেশে রাখার জন্য ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এরা এখনো প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি। অত্যন্ত সচেতনভাবে এদের দেখভাল করা হচ্ছে। উপযুক্ত পরিবেশে রাখতে পারলে এদের থেকে নতুন জাগুয়ার পাওয়া যাবে।
সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক সামসুল আজম বলেন, ‘বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে এই জাগুয়ার দুটির জন্য নতুন আবাস তৈরি করা হবে। বর্তমানে এদের কোয়ারেন্টাইন জোনে রেখে যতœ করা হচ্ছে। এদের জন্য চিরাচরিত প্রাকৃতিক পরিবেশে তৈরি করতে হলে অনেক বড় ঘর তৈরি করতে হবে। পার্কে এত বড় জায়গারও অভাব। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতো এদের নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে রাখা যাবে না। আমরা শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’

