স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভূগর্ভস্থ পানি ছাড়াই রাজধানীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটানোর মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এজন্য বিকল্প হিসেবে নদীর পানি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেড় কোটি জনসংখ্যার এ মেগাসিটির পানির চাহিদা পূরণে পদ্মা নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহ করা হবে। এ ল্েয সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরস্থ এসইসি সম্মেলন কে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক প্রধান শেখ হাসিনা। এর আগে গত মাসে মেঘনা নদী থেকে পানি এনে ঢাকা মহানগরীতে সরবরাহে অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক।
জানা গেছে, বাড়তি জনসংখ্যা চাপের ফলে প্রতিদিনই ঢাকায় পানির চাহিদা বাড়ছে। মহানগরীতে প্রতিদিন ২৪৫ থেকে ২৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে দিনে গড়ে ২২৫ থেকে ২৩০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। দিনে ঘাটতি থাকছে প্রায় ২০ কোটি লিটার। এছাড়া উত্তরোত্তর চাহিদা বাড়ায় আগামী দুই বছরে তা ৩০০ কোটি লিটারে উপনীত হতে পারে।
এদিকে বর্তমানে সরবরাহকৃত পানির বেশিরভাগই ভূগর্ভ থেকে তোলা। এতে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলে প্রতিবছর পানির স্তর ২ থেকে ৩ মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। যা শুধু পরিবেশেই নয়, ভবিষ্যতে খাবার পানি সরবরাহের জন্যও হুমকি। তাছাড়া বর্তমানে ঢাকায় শীতল্যার পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু তার মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে, যা পরিশোধনও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই আগাম হিসেবে পানি সরবরাহের এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দুটি নদীর থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হবে। এতে ঢাকায় আর পানির কোনো ঘাটতি বা সঙ্কট থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গেছে, পদ্মার পানি ঢাকায় আনতে নেয়া ‘পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ প্রকল্পটির আওতায় প্রতিদিন ৪৫০ (এমএলডি) মিলিয়ন লিটার বা ৪৫ কোটি লিটার খাবার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। এজন্য মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার জশলদিয়া এলাকায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (পানি শোধনাগার) ও সরবরাহ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পরে পরিশোধিত এ পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে ঢাকায় সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসা দেবে ২২ কোটি টাকা। বাকি ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না থেকে ঋণ নেয়া হবে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৩ থেকে জুন ২০১৬ সাল নাগাদ শেষ হবে। প্রকল্পটির উদ্যোগী মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা।
প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ঢাকাবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে। নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পরিবেশসম্মত স্যানিটেশনের মাধ্যমে ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা। ৪৫০ মিলিয়ন লিটার বা ৪৫ কোটি লিটার পার ডে (এমএলডি) ধারণমতাসম্পন্ন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ, ৩২ দশমিক ৪১ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপ (সরবরাহ) লাইন নির্মাণ, একটি ওয়াটার ইনটেক প্ল্যান্ট নির্মাণ, একটি ওয়াটার পাম্পিং স্টেশন নির্মাণ ইত্যাদি।
এর আগে সেপ্টেম্বরে মেঘনা নদী থেকে ঢাকায় পানি সরবরাহে ৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই’ নামের অপর একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এজন্য নারায়ণগঞ্জের গন্ধার্বপুরে একটি প্ল্যান্ট স্থাপিত হবে। এতে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি পরিশোধন করা যাবে। পরে পাইপলাইনের মাধ্যমে ঢাকায় আনা হবে। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হবে। প্রকল্পটির জন্য কয়েকটি দাতা সংস্থা ৪৫ কোটি ডলারের সহজ শর্তে ঋণ দেবে। এর মধ্যে এডিবি দেবে ২৫ কোটি ডলার।

