সোহেল তাজের ছেলে ব্যারিস্টার তুরাজ ভোটের প্রচারে

প্রকাশিত: December 10, 2018 | সময়: 3:42 pm

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
দাদা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় চার নেতার একজন। একটি সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখে বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী ছিলেন। দেশের জন্য রাজনীতি করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন।

দাদি দেশের সর্বপ্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছিলেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। আমৃত্যু দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

বাবা গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বাবার আদর্শ বুকে ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনীতি করছিলেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করেন। দৃঢ়তার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ একদিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে তার পরিবার থাকে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। পরে সংসদ সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের কারণ আজও স্পষ্ট করেননি তিনি। এর পরের সময়টি চলে মান-অভিমানে।

পদত্যাগের সময় বাবা বলেছিলেন-আর রাজনীতিতে ফিরবেন না। সেই সিদ্ধান্তে এখনও অনড় তিনি।

বাবা রাজনীতি থেকে দূরে সরে থাকলেও সম্ভবত নিজেকে রাজনীতিতে যুক্ত করতে চাচ্ছেন। বলছি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের একমাত্র ছেলে ব্যারিস্টার তুরাজ আহমদ তাজের কথা।

রাজনীতিতে পদচারণায় নিজেকে মুখর করতে চাইছেন তাজউদ্দীনের আরেক উত্তরসূরি। তুরাজ রাজনীতির রঙে নিজেকে রাঙাবে না কেন? তার রক্তেই তো রাজনীতি।

তার দাদা দেশের মানুষের ভাত-কাপড়ের অধিকার নিশ্চিত করতে জীবন দিয়েছেন। দাদিও আমৃত্যু মানবকল্যাণে রাজনীতি করেছেন। সেই ধারায় বাবাও হেঁটেছেন রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথের বাঁকে বাঁকে।

তুরাজ আহমদ গতকাল দিনভর বাবার সঙ্গে গাজীপুর-৪ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন। ফুফু সিমিন হোসেন রিমির নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে উঠান বৈঠক করেছেন।

কাপাসিয়ার জনগণ যারা এ পরিবারকে ঘিরে স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত রাজনীতি করে আসছেন, তাদের সঙ্গে ছেলেকে পরিচিত করছেন সোহেল তাজ।

ফুফুর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে বাবার সঙ্গে সুদূর আমেরিকা থেকে দেশে এসেছেন তুরাজ তাজ।

উঠান বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার পরিবারের অবদানের কথা সরণ করিয়ে দিয়ে তুরাজের বাবা সোহেল তাজ বলেন, আমাদের পরিবার বাংলাদেশের জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছে। আমার বাবা স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমার মা সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন দুঃসময়ে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করে নেতৃত্ব দিয়েছেন গণতন্ত্রের পক্ষে।

তিনি বলেন, আমাদের পরিবার সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পক্ষে। সে জন্য আমরা অবশ্যই থাকব। আমার বোন নির্বাচন করা মানে আমি করা।