বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ সৌদি আরবের রক্ষণশীল এক ইসলামি চিন্তাবিদ বলেছেন, নারীরা গাড়ি চালনার মাধ্যমে ডিম্বাশয়ের ক্ষতি করছেন এবং সন্তান ধারণের ক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। নারীদের গাড়ি চালানোর পক্ষে আন্দোলনকারীদের যুক্তির জবাবে তিনি এ যুক্তি তুলে ধরেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নারীদের গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আগামী ২৬শে অক্টোবর এক বিক্ষোভ সমাবেশের আহবানে অনলাইনে বেশ জোরেশোরে প্রচারণা চলছে।
এ প্রচারণায় প্রখ্যাত বেশ কয়েকজন নারী অধিকার কর্মীও সমর্থন দিয়েছেন। রোববার এ প্রচারাভিযানের ওয়েবসাইটটিকে স্যৌদি আরবে ব্লক করে দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে শেখ সালে বিন সাদ আল লোহাইদান বলেছেন যেসব নারী গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করতে চাইছেন তাদের উচিত মন, আবেগ-অনুভূতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত কারণগুলো বিবেচনা করা।
শেখ সালে বিন সাদ আল লোহাইদান হচ্ছেন সৌদি আরবের অন্যতম শীর্ষ ইসলামিক সংগঠন সিনিয়র কাউন্সিল অব স্কলার্সের একজন সদস্য। তিনি গাল্ফ সাইকোলজিস্টদের একটি সংগঠনেও আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সৌদি সমাজে নারীদের গাড়ি চালনার ব্যাপারে পুরুষদের কট্টরপন্থি মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি বলেছেন, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া নারীরা যদি গাড়ি চালান তাহলে সেটা তাদের ওপর নেতিবাচক মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। মানসিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমীক্ষাতে দেখা গেছে এর ফলে ডিম্বাশয় প্রভাবিত হয় এবং নিতম্বের মধ্যকার অস্থিকাঠামো উপরের দিকে উঠে আসে। এ কারণেই যেসব নারী নিয়মিত গাড়ি চালান তাদের সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে নানা জটিলতায় ভুগতে দেখি। তার যুক্তির পক্ষে তিনি অবশ্য সুনির্দিষ্ট কোন সমীক্ষার কথা তুলে ধরতে পারেননি।
নারীদের গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কোন আইনের বলে কার্যকর করা হয়নি। তবে সৌদি আরবে কেবল পুরুষদেরকেই গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে অনুমতি দেয়া হয়ে থাকে। নারীরা লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে তাদের জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এ অপরাধের জন্য তাদেরকে আটক এবং বিচারের সস্মুখীন করার নজিরও সৌদি আরবে রয়েছে।

