Skip to content

পদোন্নতি পদায়ন নিয়ে প্রশাসনে তীব্র অসন্তোষ

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: পদোন্নতি আর পদায়ন নিয়ে সরকারের প্রশাসনে এখন চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে। যোগ্য, দক্ষ, মেধাবী এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাদ দিয়ে প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রশাসনের উপরের দিকে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এই ক্ষোভ-অসন্তোষের মাত্রা বেড়েছে। সরকারবিরোধীদের পাশাপাশি এখন খোদ সরকারি দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ’৮২ ব্যাচকে অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে ’৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষের মাত্রা বেশি।

ক্ষোভ আছে দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি হয়ে পড়ে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যেও।শুধু তাই নয়, প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে বসানো হয়েছে এবং হচ্ছে তারা বর্তমান সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার চেয়ে, অসহযোগিতাই বেশি করছেন বলে বিভিন্নভাবে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সচিব ও ডিজির মতো বড় পদে থেকে অনেক কর্মকর্তা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে অসহযোগিতা করছেন ও বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন। যার ফলে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
এতে করে সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোও গতিহীন হয়ে পড়েছে।এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে বিবেচনায় নিয়েই সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ’৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন না- এ অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সচিব পদে সর্বশেষ পদোন্নতি পাওয়াদের মধ্যে তিনজন রয়েছেন ’৮৪ ব্যাচের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে সদ্য বদলি হওয়া একজন কর্মকর্তা বলেন, তার অনেক ব্যাচমেট পদোন্নতি পেলেও তিনি বারবার বঞ্চিত হয়েছেন। দলবাজি ও তদবির করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে।একই মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে কখনই পদোন্নতি চাই না। তাকে বিভিন্নভাবে পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে এই উপসচিব বলেন, এখন যে শাখায় আছি সেখান থেকেও বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সম্প্রতি আবারও আগের জায়গায় ফেরত আনা হয়েছে। তবে তদবির আর দলবাজি না করায় পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে যারা ’৮২ নিয়মিত ও বিশেষ ব্যাচের কর্মকর্তা। যাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে নানারকম প্রশ্ন আছে।
তাদের এই পদোন্নতির ফলে সচিব হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ’৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তারা। ’৮৪ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এখন যেভাবে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে তাতে সরকারের কোনো লাভ হচ্ছে না। সচিব পদে সাধারণত সরকারের পছন্দের লোকজনদের পদোন্নতি দেওয়া হয়। যাদের দিয়ে সরকার তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু এখন যাদের সচিব করা হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে সেটাও ফলো করা হচ্ছে না। এর ফলে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাই সচিব হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা কর্মকর্তারা তাদের পছন্দের লোকজনকে সচিব পদে পদোন্নতি দিচ্ছেন। এতে ’৮২ নিয়মিত ও বিশেষ ব্যাচের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফলে আমরা আর সচিব হতে পারব কি-না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের পেছনে থাকা ’৮৫ ব্যাচও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব ’৮৪ ব্যাচের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের এক একটি ব্যাচে শত শত কর্মকর্তা থাকেন। কিন্তু সবাই সচিব হতে পারেন না।
প্রতি ব্যাচ থেকে ২০-২২ জনের বেশি সচিব হওয়ার নজিরও নেই। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ’৮২ নিয়মিত ও বিশেষ ব্যাচ থেকে সচিব করার হিড়িক পড়ে গেছে। এর মাধ্যমে মূলত আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।১৯৮২ নিয়মিত ব্যাচের একজন কর্মকর্তা বলেন, সচিব পদে কাজ করার মতো তার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। পদোন্নতি না পেয়ে হতাশ এই কর্মকর্তা বলেন, এখন নিয়ম রক্ষার অফিস করি। অবসরের আগ পর্যন্ত এভাবেই কাটবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা বা সরকারের পছন্দের চেয়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পছন্দের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে যাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তাদের বেশির ভাগই বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সুবিধাভোগী।
এমনকি যারা বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রীদের পিএস ছিলেন তাদেরও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে এবং দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পছন্দই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ওই মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ শাখায় অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য তিনজন যুগ্ম-সচিবের নাম উল্লেখ করে একটি প্রস্তাব এসএসবিতে গিয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি এসএসবি। একটি সূত্র জানায়, লেজিসলেটিভ শাখার সচিব তার পছন্দের ও কট্টর বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত অযোগ্য এক নারী কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব করার জন্য মরিয়া হয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন। কিন্তু প্রস্তাবটি এসএসবিতে ওঠার আগ মুহূর্তে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ওই পদোন্নতি প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি এসএসবি।একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি সচিব পদে শফিকুল ইসলাম নামের একজন কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত পাঠানো হয়। কিন্তু তার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যিনি বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার, পল্লী, উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
একইভাবে বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে নেত্রকোনার ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ’৮২ নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তা আজিজুর রহমানকেও সচিব করার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে।অভিযোগ উঠেছে, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সচিব ও ডিজি পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তা এখন সরকারকে নানাভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খুরশেদ আলম চৌধুরী একটি বক্তব্য সরকারকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। পর্যটন সচিব সম্প্রতি মেয়েদের স্কাট পরা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করলে এ নিয়ে সরকারের ভিতরেই সমালোচনা হয়।একইভাবে সরকারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালকের (ডিজি) দায়িত্বে থাকা আতোয়ার রহমান গত কয়েক বছরে ঢাকায় কোনো ফাইভ স্টার হোটেলে বিদেশিদের জন্য বারের লাইসেন্স দেননি। যা সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। সম্প্রতি আতোয়ার রহমানকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে সরিয়ে দিলেও তিনি এখনো স্বপদে বহাল তবিয়তেই আছেন। (বিডি-প্রতিদিন)

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫