বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত আলোচিত ফেলানী হত্যার বিচার আবার শুরু হয়েছে ভারতের বিশেষ আদালতে। সোমবার থেকে এ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর দু’এক দিনের মধ্যে তাতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন ফেলানীর বাবা ও মামা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ বাংলামেইলকে বলেন, ‘ভারতের কোচবিহারের বিএসএফের সদর দপ্তরে স্থাপিত বিশেষ আদালতের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে এ বিচার শুরু হয়েছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যেই সাক্ষ্য দিতে এবং আদালতকে সহযোগিতা করতে ভারত যাবেন ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম, মামা আব্দুল হানিফ, আমি নিজে ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন।’
এ ব্যাপারে ভারত সরকারের পক্ষে বিএসএফ যে কোনো সময় আমন্ত্রণ জানাবে বলে জানান তিনি।
ফেলানী হত্যার সঠিক বিচার না পেয়ে ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারত সরকারের নিকট পুনঃবিচারের আবেদন করেন ফেলানীর বাবা। এরপর শুরু হয় কূটনৈতিক ও বৈদেশিক চাপ। পরে বিজিবি-বিএসএফ এর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ফেলানী হত্যার পুনর্বিচারে সম্মত হয় বিএসএফ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ফের বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে বিচার কার্যক্রমে অংশ নিতে তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। ৪ সদস্যের প্রতিনিধির জন্য ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে রাজশাহীর ভারতীয় হাইকমিশন থেকে। সব কিছু ঠিক থাকলে দুই/তিন দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রমে তারা অংশ নেবেন। ফেলানীর বাবা ও মামা সাক্ষ্য দেবেন। এছাড়া কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন বাংলাদেশের আইনজীবী হিসেবে সাক্ষ্য ও আদালতকে সহায়তা করবেন। সার্বিক সহযোগিতা এবং বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে ৪৫ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ এই টিমকে নেতৃত্ব দেবেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে দালালের মাধ্যমে মই বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানে ঝুলে থেকে আধাঘণ্টা ধরে ছটফট করে মারা যায় কিশোরী ফেলানী। ভারত থেকে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় এ নৃশংসতার শিকার হয় সে। এরপর সকাল পৌনে ৭টার থেকে নিথর দেহ কাঁটাতাঁরের উপর ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা। পরে বিএসএফ মরদেহ নামিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এরপর বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে মৃত্যুর ৩০ ঘণ্টা পর ৮ জানুয়ারি মরদেহ ফেরত দেয় বিএসএফ। বাংলাদেশে আরেক দফা ময়না তদন্ত শেষে লাশ দাফন হয় ৭৩ ঘণ্টা পর।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অব্যাহত চাপের মুখে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন কুড়িগ্রামে গিয়ে ফেলানীর মা ও ভাই-বোনদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। আর ১৫ ফেব্রুয়ারি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তায় সারাদিন লুকোচুরি শেষে বিকেলে মা ও ভাই-বোনদের বাংলাদেশে ফেরত দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমালোচনার ঝড় তোলে। খোদ ভারতের গণমাধ্যমগুলোর সোচ্চার ভূমিকায় কোচবিহারের বিএসএফের বিশেষ আদালতে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে ভারত সরকার। আদালতে সাক্ষ্য দেন প্রত্যক্ষদর্শী বাবা নুর ইসলাম ও মামা আব্দুল হানিফ।
কিন্তু অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষকে ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বেকসুর খালাস দেন বিশেষ আদালত। পরে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে আবেদন করে ফেলানীর পরিবার। দেশি-বিদেশি চাপে ভারত রায় পুনর্বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সোমবার ফের শুরু হয়েছে ফেলানী হত্যার বিচার। বাংলামেইল২৪ডটকম
