Skip to content

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনাকে বাধা মনে করছে না দুদক

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: আদালতের অনুমতি ছাড়া গ্রাহকের হিসাব সংক্রান্ত তথ্য না দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্য্যক্রমে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। বরং এতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ হবে বলে মনে করছে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থাটি।

সম্প্রতি আদালতের অনুমতি ছাড়া সরাসরি দুদককে গ্রাহকের হিসাব-সংক্রান্ত কোনো তথ্য না দিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার এমন নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বন্ধ হয়ে যায় দুদকের সরাসরি হিসাব সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন নির্দেশনার পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার (৩ আগস্ট) দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশ
ব্যাংকের এমন নির্দেশনা নেতিবাচকভাবে দেখছি না। এতে দুদকের অনুসন্ধান বা তদন্তকাজে বিঘ্ন ঘটবে না।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত বা আসামির অ্যাকাউন্টের তথ্য জানার প্রয়োজন হলে আমরা আদালতের অনুমতি নিয়েই করবো। এতে হয়তো কিছুটা সময় বেশি লাগবে। সময় বেশি লাগলেও একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তথ্য নেওয়া যাবে।

বদিউজ্জামান আরও বলেন, দুদক আইন ২০০৪-এর ক্ষমতাবলে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে থাকে দুদক। এটার মিস ইউজ হয়েছিলো। এজন্য ২০০৯ সালে দুদক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।

দুদকের প্রধান এ নির্বাহী বলেন, আমরাও চাই দুদকের তথ্য পাওয়ার যে সুযোগের যেন অপব্যবহার না হয়। আমাদের কারো অ্যাকাউন্ট জানার একান্ত প্রয়োজন হলে আমরা আদালতের অনুমতি নিয়ে করবো।

এদিকে দ্দুকের পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, দুদক আইনের অপব্যবহার করে এ প্রতিষ্ঠানেরই এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ব্যাংক থেকে তথ্য নিয়ে অভিযুক্তের কাছ থেকে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। কমিশনেও এমন অভিযোগ এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনার ফলে এখন দুদকের কোনো কর্মকর্তা চাইলেই ব্যাংকে চিঠি দিতে পারবেন না। আদালতের অনুমতি নিয়ে এটি করতে হবে।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে দুদক ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে গ্রাহকের হিসাব-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যাংক দুদকের চিঠির ভিত্তিতে এ তথ্য সরবরাহ করে। তবে বেশ কয়েকটি ব্যাংক এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত জানতে চায়। দুদক আইন এবং ব্যাংকার্স বুকস্ এভিডেন্স অ্যাক্ট সাংঘর্ষিক হওয়ায় এতে দোটানায় পড়ে ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার জন্য। এরপর সরাসরি দুদককে তথ্য না দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্দেশনা আসে।

গত রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ সংক্রান্ত সার্কুলার তফসিলি ব্যাংকের পাশাপাশি কার্যরত ৩১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছেও এ সার্কুলার পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের কিংবা আসামির হিসাব সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়ে দুদক ২০০৯ সালের ২৩ জুন একটি আদেশ জারি করে।

দুদকের ওই আদেশে বলা হয়, বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে সুষ্ঠু অনুসন্ধান এবং মামলা তদন্তের স্বার্থে দুদক আইন, ২০০৪-এর ১৯(১)(ঘ) ধারার ক্ষমতাবলে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয়/বাণিজিক ব্যাংক থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে থাকে দুদক। প্রকৃতপক্ষে, ব্যাংকার্স বুকস এভিডেন্স অ্যাক্ট (বিবিইএ), ১৮৯১-এর ৫ ও ৬(১) ধারা এবং কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সিআরপিসি), ১৮৯৮-এর ৯৪(১) ধারা অনুযায়ী আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়া আমানতকারী/হিসাবধারীর হিসাব সংক্রান্ত তথ্য অন্য কোন পক্ষকে দেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে আদালত বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কার্যবিধি অনুসারে তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে সমন ও আদেশের লিখিত সময় ও স্থানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দলিলপত্র নিয়ে হাজির হতে আদেশ দিতে পারেন। কিন্তু এই সংক্রান্ত তথ্য যদি কোন ব্যাংক বা ব্যাংকারের হেফাজতে থাকে তাহলে দায়রা জজের লিখিতভাবে পূর্বানুমতি নিয়ে দণ্ডবিধির ৪০৩, ৪০৬, ৪০৮ ও ৪০৯ ধারা এবং ৪২১ হতে ৪২৪ ধারা এবং ৪৬৫ হতে ৪৭৭-ক ধারা অনুযায়ী অপরাধের তদন্তের জন্য তথ্য দিতে আদেশ দিতে পারবেন।

অন্যান্য ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের লিখিত পূর্বানুমতি লাগবে। এই নিয়ম অনুসরণ না করে দুদক কোন তথ্য চাইতে পারে না, চাইলেও কোন তথ্য দেওয়া যাবে না।

তাই অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান কিংবা মামলার তদন্তের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের বা আসামির ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য/কাগজপত্র ব্যাংক থেকে সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের যেন কোন রূপ ব্যতয় না ঘটে সে বিষয়ে যতœবান থাকতে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ওই সার্কুলারে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫