Skip to content

অবশেষে বারি কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করলেন ॥ সেই ভেজাল পোর্টেবল কোল্ডষ্টোরেজ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের জন্য ভ্রাম্যমান হিমাগার (চড়ৎঃধনষব পড়ষফ ংঃড়ৎধমব) সরবরাহ কাজে পুকুর চুরির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সাফাই প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্ত কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমান পোর্টেবল কোল্ডষ্টোরেজ সরবরাহের জন্য বারি কর্তৃপক্ষ ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে মেসার্স জাহিন এন্টারপ্রাইজ, কুষ্টিয়াকে কার্যাদেশ দেন। কার্যাদেশে গত ২০১৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ চায়নার তৈরী মডেল নং- ঠঈজ-২৩ একটি কমপ্লিট পোর্টেবল কোল্ডষ্টোরেজ সরবরাহের নির্দেশনা দেয়া হয়।
কিš‘ অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের লোকাল ওয়ার্কসপ থেকে একটি বডি তৈরী করা হয়। যার চাকার সাথে টায়ার-টিউবের মিল না থাকায় গেটিজ মেরে বারি কর্তৃপক্ষকে তা বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে কৃষি গবেষণারই অপর এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্যারাগন ট্রেডিং কর্পোরেশন নকল হিমাগারের লড়িটি যাচাই-বাছাই করে রিসিভ করতে বারি মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এ প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য বারি’র পরিচালক (এফএমটি) ড. মোঃ এছরাইল হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি গত ২৫ মে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত প্রতিবেদন পেশ করেন। প্রতিবেদনে ইন্টেরিয়র ডাইমেনসন চাহিদার চেয়ে ১৯% কম বলে একমাত্র নেতিবাচক মন্তব্যটি করা হয়েছে। অন্যান্য বিষয় ঠিক আছে বলে ঢালাও সাফাই সাক্ষী দেয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী কোল্ড স্টোরেজটি চীন দেশের তৈরি হতে হবে। প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে, সরবরাহকৃত কোল্ড স্টোরেজটি আসলেই চীন দেশের।
কিš‘ কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহকৃত কোটেশনের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর ওয়েব সাইট অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ঐ কোম্পানী এরকম কোন পোর্টেবল কোল্ড স্টোরেজ তৈরি কিংবা বিক্রি করে এমন কোন তথ্য সেখানে উল্লেখ করা নেই। যদিও ওই কোম্পানীর তৈরিকৃত ও বিক্রয়ের জন্য অন্যান্য পণ্য সেবার দীর্ঘ তথ্য সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যুগ্ম পরিচালক (সংগ্রহ ও ভান্ডার) মোঃ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পোর্টেবল কোল্ডষ্টোরেজের ক্যাটালক দেখানোর অনুরোধ করলে তিনি তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এর আগে এ অভিযোগের বিষয়ে বারি’র মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মন্ডল বাংলাভূমিকে বলেছিলেন, ‘এটি বাংলাদেশে প্র¯‘ত করা সম্ভব নয়। এটির যন্ত্রাংশ চীন থেকে আমদানী করা হয়। এর আংশিক বাংলাদেশে ফিটিং করা হয়েছে’।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার প্রায় এক বছর পর তা সরবরাহ করা হয়েছে। অতিরিক্ত সময়ের জন্য কোন আবেদনও করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এসব অনিয়মের কোনটিই ধতর্ব্য বলে গণ্য করেন নি। বরং বিনা আপত্তিতে ভেজাল গ্রহণ করে নিয়েছেন। এবং কোনরকম কাটছাট না করেই সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করে দিয়ে যেন মহাঝামেলার হাত থেকে এযাত্রা রক্ষা পেয়ে গেলেন!

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫