বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে নানা তুঘলকি কাণ্ডের পর আরো একধাপ এগিয়ে গেল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটি একদিকে বলছে, সবার এনআইডি নিশ্চিত না হলে তা বাধ্যতামূলক করা যাবে না। আর অন্যদিকে ব্যাংকগুলোকে তা বাধ্যতামূলক করার এখতিয়ারও দিচ্ছে।
ইসিসূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই চুক্তি সম্পাদন করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ এখতিয়ার দেওয়া হচ্ছে। চুক্তির ফলে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে যেকোনো গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গেলে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া হবে। অথচ ইসি নিজেই গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, দেশের সব নাগরিকের এনআইডি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা যাবে না।
জানা গেছে, আগামী ১৯ আগস্ট বুধবার ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে হোটেল রেডিসনে এ বিষয়ে চুক্তি করবে নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এনআইডি বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ব্যাংক দু’টির কাছ থেকেও এনআইডি ছাড়া সেবা পাওয়া যাবে না।
ইতোমধ্যে ইসি’র কাছে সকল বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এনআইডি তথ্যভাণ্ডারের তথ্য শেয়ারের আবেদন করেছে। পর্যায়ক্রমে তাদের সঙ্গেও চুক্তি করবে কমিশন।
জাতীয় পরিচয়পত্র আইনের ১১ (১) ধারা অনুযায়ী, ‘সরকার সরকারী গেজেটে এবং তদতিরিক্ত ঐচ্ছিকভাবে ইলেকট্রনিক গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা উহাতে উল্লেখিত যেকোনো সেবা বা নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে, নাগরিকগণকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও উহার অনুলিপি দাখিলের ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের সমগ্র এলাকায় সাধারণভাবে নাগরিকদের অনুকূলে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এরুপ প্রজ্ঞাপন জারী বা ব্যবস্থা চালু করা যাবে না। একই সঙ্গে এনআইডি না থাকার কারণে কোনো নাগরিককে নাগরিক সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিতও করা যাবে না’।
কিন্তু ইসি তার নিজের তৈরি এ আইনটিই মানছে না। কেননা, নাগরিকদের তথ্য যাচাইয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে সেসব প্রতিষ্ঠানকে ইসি এনআইডি বাধ্যতামূলক করার উৎসাহ দিচ্ছে। অথচ এমন কোনো প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়নি।
এ বিষয়ে ইসি’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, এমনিতেই বেসরকারি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো সেবা দিতে চায় না। এর ওপর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ইসির তথ্য ভাণ্ডারের তথ্য শেয়ার করলে নাগরিকদের চরম অসুবিধায় পড়তে হবে। কেননা, ব্যাংকগুলো তখন তথ্যের নিশ্চয়তার জন্য সবার কাছেই এনআইডি’র অনুলিপি দাখিল করতে বলবে। এক্ষেত্রে ইসি মূলত দ্বৈতনীতি গ্রহণ করেছে। যা আইনের মূল মর্মবস্তু বা স্পিরিটের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। এটা আইনের প্রতি বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর সামিল।
ইসি-সচিব সিরাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গেলে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করতে হয়। এছাড়া কোনো নাগরিককে তো আর বলা হয়নি, আপনাকে এনআইডি দেবো না।
বর্তমানে দেশে ৯ কোটি ৬২ লাখ ভোটার রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৭ লাখ নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র এখনো দেয়নি ইসি। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
