Skip to content

ঢাবি ছাত্রলীগে গ্রুপিং: সংঘর্ষের আশঙ্কা

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাবি: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং এর হল কমিটিগুলোতে স্থান পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ঢাবি ছাত্রলীগের উঠতি নেতা-কর্মীরা। এরইমধ্যে এ নিয়ে নানা গ্রুপিং ও বিভক্তিও দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে। এসব বিভক্তি শেষ পর্যন্ত পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কেই অস্থির করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদালয় ছাত্রলীগে সৃষ্ট অন্তঃকোন্দলের ফলে এরই মধ্যে কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা সে আভাসই দিচ্ছে। ফলে এ ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে- যে কোনো সময় সংঘর্ষ বাধতে পারে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপের মধ্যে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। ছাত্রলীগের সবচেয়ে শক্তিশালী এ ‘ইউনিট’-এর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঢুকতে এবং হল কমিটিগুলোতে দায়িত্ব পেতে এরইমধ্যে নানা তদবীর, গ্রুপিং, শক্তি প্রদর্শন এবং শোডাওন হচ্ছে। বিশেষ করে হল কমিটিগুলোকে ঘিরে নানা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেছে নেতাকর্মীরা। তারই জের ধরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে পরিস্থিতি। গত সোমবার দিবাগত রাতে প্রায় সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়েছিল সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, সেদিন রাতে প্রায় ৫টি গ্রুপ তাদের আলাদা বাহিনী নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এসময় তাদের সবার হাতে ছিল চাপাতি, রডসহ তিন শতাধিক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের হস্তক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনার জের ধরে হলের তিনটি আবাসিক রুম সিলগালা করা হয় তাৎক্ষণিকভাবেই। এরমধ্যে সহ-সভাপতি খাইরুল ইসলাম যে রুমে অবস্থান করতেন সেই ৩৩৯ নম্বর রুম, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ নাজিম ও গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদ বিন কাদির এর ৩৩৫ নাম্বার রুম এবং উপ আইন বিষয়ক সম্পাদক চয়ন শিকদারের ১৩৭ নাম্বার রুম সিলগালা করা হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, যে কোনো সময়ে বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে। যেদিন এমন সংঘর্ষের রূপ নিয়েছিল সেদিন তিনি আগে থেকেই টের পেয়ে অন্য হলে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

সূত্র জানায়, জহুরুল হক হলে সেদিনকার ঘটনার সূত্রপাত ‘সিট’ দখল নিয়ে। হলে রুম বরাদ্দ দিতেন হল সভাপতি রিফাত জামান ও সাধারণ সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়। বর্তমানে হলের সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৫জন হলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানায় ওই সূত্র।

সূত্র জানায়, তারাও রুম দখল করতে চান। অন্যদিকে যারা গ্রুপিংয়ে লিপ্ত তাদেরকে কোনো রুম দখলে নিতে দিতে চান না হলের সভাপতি-সম্পাদক। এ নিয়ে কয়েক দফায় গ্রুপিংকারীদের শাসিয়েও দিয়েছেন রিফাত ও জয়। সর্বশেষ গত শনিবার হল কমিটির পদধারী সবাইকে গেমস রুমে ডেকে হুঁশিয়ার করেছেন তারা।

জানা গেছে, জহুরুল হক হলে যেসব গ্রুপ রয়েছে এর মধ্যে হল কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান জুয়েল একটি গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বাড়ি সিলেট অঞ্চলে। আরেকটি গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হল শাখার সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। এছাড়াও একটি গ্রুপ চালাচ্ছেন সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান। তার বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে। আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাদারিপুরের শাকিল। অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়া সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারের বাড়ী বাগেরহাট এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই অবস্থা অন্যান্য হলেও। প্রায় প্রতিটি হলেই অঞ্চলভেদে বিভক্ত হয়ে গেছে নেতাকর্মীরা। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকদের ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা গ্রুপ। আবার অনেকেই আছেন যারা আগে ততোটা সক্রিয় না থাকলেও বর্তমানে কেন্দ্রে অথবা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে স্থান পাওয়া নিজের এলাকার নেতাদের নিয়ে গ্রুপ দাঁড় করাচ্ছেন।

জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই হলগুলোতে তৎপরতা বেড়ে গেছে পদ প্রত্যাশীদের। এরইমধ্যে ছাত্রলীগের ‘সুপার ফোর’ হিসেবে পরিচিত চার নেতাকে কেন্দ্র করে অঞ্চল ভিত্তিক নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে গেছেন।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০টি আবাসিক হলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ৪০জন নেতা মনোনয়ন দেয়া হবে। হলগুলোতে নেতা নির্ধারণ করবেন কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন এবং ঢাবি সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসনে প্রিন্স।

নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই তাদের কাছে গিয়ে ধর্ণা দেয়া ও তদ্বিরবাজি শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি গ্রুপ তাদের শক্তি-সামর্থ জানান দিচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে আড্ডা দিয়ে এবং চা খেয়ে। এছাড়া মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত শোডাউনতো রয়েছেই।

সূত্র জানায়, হলগুলোতে আগের কমিটি এখনো পুনর্বহাল থাকায় তারা চাচ্ছেন নেতাকর্মীরা যেন তাদের পাশে থাকে। তাছাড়া সামনেই কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে হল শাখার নেতারা সেখানেও তাদের অবস্থান পাকা করে নিতে চাইছেন। এজন্য তারা কেন্দ্রেও ধর্ণা দেয়া শুরু করেছেন। কিন্তু এসময়ে তারা নিজেদের নেতাকর্মীদের পাশে পাচ্ছেন না। হল শাখার পদপ্রত্যাশীরা চাচ্ছেন তাদের নেতা বদল করে ‘সুপার ফোর’ চারজনকে প্রটোকল দিয়ে নিজের অবস্থান ঠিক করে নিতে। সে হিসেবে এলাকার ভিত্তিতে তারা বিভক্ত হয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।

সূত্র জানায়, হল শাখার ছোটখাটো নেতারাও এলাকাভিত্তিক আলাদা আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করছে। এতে দল নানা ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রকট হয়ে উঠেছে নানা গ্রুপের মধ্যে বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্বও। তাই যে কোনো সময় সেসব দ্বন্দ্ব সংঘর্ষে রূপ নেয়ার আশংকা কাজ করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে। জহুরুল হক হলের ঘটনা সে ধারণাকে আরো বদ্ধমূল করে দিয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান বাংলামেইলকে বলেন, ‘কোনো ক্যাডার-মাস্তানকে ছাত্রলীগের পদ দেয়া হবেনা। যারা এ ধরনের কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও একাডেমিক ব্যাবস্থা নেয়া হবে। ছাত্রলীগে এখন মারকাট রাজনীতির কোনো স্থান নেই।’

তিনি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি এবং হল কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান। বাংলামেইল২৪ডটকম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫