Skip to content

সরকার নয়, বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে আ.লীগ

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
সিলেট: সরকার নয়, আওয়ামী লীগই বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।

শনিবার বিকালে সিলেট নগরীর রিকাবিবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটরিয়ামে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের ১২৭তম পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

বিবিসি বাংলা এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের যৌথ উদ্যোগে সিলেটে ১২৭তম বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে দর্শকরা মতামত প্রকাশ এবং প্রশ্ন করেন। অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ ও উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।

শনিবার বিকেলে কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সিলেট মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসিম হোসেইন, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ড.মুনতাহা রকিব।

অনুষ্ঠানে দর্শকদের চারটি প্রশ্নের উত্তর দেন প্যানেল সদস্যরা। অনুষ্ঠানের তৃতীয় প্রশ্ন ছিলো-বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন যে তার দলকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন কোন তৎপরতা কি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন?

ওই প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি নেতা নাসিম হোসেইন বলেন, ‘সংবিধানের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম মতপ্রকাশ। কিন্তু এই মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে সরকার।’

এ সময় তিনি সরকার বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে অভিযোগ করেন।

পরে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকার নয়, বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি’র সহিংসতা প্রতিরোধ করছে তারা। আর সেই খেলায় বিএনপি হেরে গেছে।’

এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু বিএনপির নয়, সাধারণ মানুষেরও মত প্রকাশের অধিকার খর্ব হচ্ছে। সরকারের এ ব্যাপারে নজর দেয়া উচিত।’

মুনতাহা রকিব বলেন, ‘একটি শক্তিশালী বিরোধীদল থাকা উচিত।’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই উৎপাদন খরচ কমার পরেও বাংলাদেশে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো কতটা যুক্তিসঙ্গত এমন প্রশ্নের উত্তরে অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তর্জঅতিক বাজারের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এ মূল্য গণবিরোধী। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে এ মূল্যের পার্থক্য অনেক বেশি। বিদ্যুতের ব্যবহারকারীরা কিন্তু একেবারেই সাধারণ মানুষ। তাই তাদের জন্য মূল্য বৃদ্ধি অযৌক্তিক।’

ড. মুনতাহা রকিব বলেন, ‘এসব প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নীতি পরিবর্তন না করা গেলে খুবই অসুবিধা হবে। সরাসরি দাম না বাড়িয়ে সিস্টেম লস বন্ধ করা এবং মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা গেলে বেশি ভালো হবে।’

নাসিম হোসেইন বলেন, ‘এর আগে বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির দোহাই দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এবার তো বিশ্ব বাজারে মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এ সরকার আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করছে।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকার এর মাধ্যমে কোন লাভ করছে না বরং ভর্তুকি কমিয়ে ক্ষতি কমাচ্ছে। বিদ্যুৎ আমরা নিজেরা উৎপাদন করতে পারি না, বিদেশ থেকে আনতে হবে। প্রভাব পড়বে, তবে তা কতটুকু তা অর্থনীতিবিদরা বিচার করবেন।’

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিলো-লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে মারা যাওয়া মানুষদের মধ্যে বাংলাদেশীও রয়েছেন। আমরা দেখছি বাংলাদেশের শতশত মানুষ অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। তারপরও মানুষ কেন এতো ঝুঁকি নিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি নেতা নাসিম হোসেইন বলেন, ‘দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ঠিক থাকলেও,কর্মসংস্থান নেই। তাই এই যুবকরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।’

এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংক যা দিয়েছে সেখানে বিশাল শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই।’

ড. মুনতাহা রকিব বলেন, ‘দেশে কর্মমুখী শিক্ষা কার্যকর করা দরকার। আমাদের আয় বেড়ে যাওয়া মানেই কিন্তু সবাই কর্মজীবি বা বেকারত্ব নেই এমনটা নয়।’

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশের ভেতরে যথেষ্ট পরিমাণ কাজের সুযোগ নেই এটা সত্যি। তবে, বাইরে গিয়ে কাজ করার বাসনা আছে, এটা জাতিগত বিষয়।’

অনুষ্ঠানে সর্বশেষ প্রশ্ন ছিলো- বাংলা ভাষা ব্যতীত বাংলাদেশের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এসব ভাষা টিকিয়ে রাখার জন্য কী করা প্রয়োজন?

ওই প্রশ্নের জবাবে মুনতাহা রকিব বলেন, ‘বিশ্বায়নের প্রভাব এখানে একটি বিষয়। যে কোন সম্প্রদায়ের ভাষা বাঁচিয়ে রাখার জন্য সে সম্প্রদায় এবং সরকারের সবার সচেতন থাকা উচিত।’

নাসিম হোসেইন বলেন, ‘অঞ্চলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত ওই ভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘এটা বাস্তব একটি ধারা। অর্থনৈতিক চাপে, জীবিকার চাপে এই বিলুপ্তি ঘটছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার লালবাগ কেল্লায় ধারণ করা হয়েছিল চলতি তৃতীয় সিরিজের প্রথম পর্বটি। আর সেই থেকে এ পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছে বাংলাদেশ সংলাপ এর সাপ্তাহিক আয়োজনের মোট ১২৭ টি পর্ব।

ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক শহরেও আলোচনার পরিধি বিস্তৃত করেছে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ। যার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া, ফরিদপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বরিশাল, নাটোর, টাঙ্গাইল, যশোর, মাগুড়া, বরগুনা, রাঙ্গামাটি ও নোয়াখালীর মতো শহরেও আয়োজন করা হয়েছে এই অনুষ্ঠানটির।

‘বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ’ অনুষ্ঠানটি বিবিসি বাংলায় প্রচারিত হয় প্রতি রোববার রাত ৮টায় এবং পুন:প্রচারিত হয় মঙ্গলবার রাত ৮টায়। এছাড়া চ্যানেল আইয়ে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয় সোমবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে এবং পুন:প্রচারিত হয় প্রতি মঙ্গলবার সকাল ৫টা এবং দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে। বাংলামেইল২৪ডটকম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫