মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের ঐতিহ্যবাহী শিমুলিয়া ঘাটে পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে পর্যটক ও ব্যবসা বাণিজ্যে চরম ধ্বস নেমেছে। বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসী নানা অভিযোগ তবে প্রশাসনের রয়েছে আশ্বাস। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চর জেগে ওঠায় ঘাটের স্বাভাবিক চিত্র বদলে গেছে। ঘাটের কাছে চর জেগে উঠে বালু চর ও ঘাটের মাঝে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ট্রলার চলাচলে বিপর্যয় নেমে এসছে। এতে পর্যটকরা ঘাট বিমুখ হয়ে পড়ছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর নানা অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে লৌহজং উপজেলা শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে বড় একটি চর জেগে ওঠায় একটি মাত্র অত্যন্ত ছোট্ট চ্যানেল দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে কোনমতে ট্রলারগুলো চলাচল করছে; যা ভ্রমণ পিপাসুদের মনের মতো নয়। অনেক সময় ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ঘাটের কাছে চর পড়ে চর ও ঘাটের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে একটি খাল। এই খালেও নেই পানি। সামান্য পানিতে ট্রলারগুলো ঝুঁকি নিয়ে ঘাটে ভিড়ছে। আর এ খাল থেকে নদীতে ছোট একটি চ্যানেল দিয়ে কোনমতে চলাচল করছে ট্রলার। মুখোমুখি দুটি ট্রলার একসাথে এ চ্যানেল পার হতে পারছে না। তাছাড়া তেমন সুব্যবস্থা না থাকায় ট্রলার থেকে নামার সময় পর্যটক যা যাত্রীরা পড়ে যাচ্ছে কাদামাটিতে। কখনও কখনও পড়ে গিয়ে অনেকেই আহত হচ্ছে। নাব্যতা সংকট ও ভোগান্তির কারণে পর্যটকরা এখন শিমুলিয়া ঘাট বিমুখ হয়ে পড়ছেন। ফলে পর্যটক নির্ভর এই ঘাটের ব্যবসা—বাণিজ্যে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়।
স্থানীয়দের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঘাটসংলগ্ন সামনের চরটি বা জেগে ওঠা চর কেটে ফেলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই চরটি কেটে ফেললে পুনরায় প্রয়োজনীয় নাব্যতা ফিরে আসবে এবং নির্বিঘ্নে ট্রলার চলাচল করতে পারবে ঘাট থেকে। এতে ঘাটে আবার পর্যটকদের ভিড় জমবে এবং প্রাণ ফিরে পাবে এই অঞ্চলের ব্যবসা—বাণিজ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভ্রমণ পিপাসুদের।
এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ট্রলার ঘাটের ইজারাদার কাউসার শেখ জানান, প্রায় ৯ শতাধিক ট্রলার চালক ও শ্রমিক জড়িয়ে আছে এই ঘাটকে কেন্দ্র করে। ঘাটসংলগ্ন চরটি কেটে নাব্যতা সংকট দূর না করলে এসকল লোকজন না খেয়ে মরবে।
অপর ইজারাদার হামিদুর রহমান জানান, এখানে দুটি ঘাট রয়েছে। একটি দেশীয় ঘাট আর অপরটি পর্যটক ঘাট। দুটি ঘাটে অর্ধকোটি টাকার উপরে ইজারা হয়েছে। চর পড়ার কারণে এখন ঘাট দুটি মরে গেছে। পর্যটকরা এখানে আসে ট্রলারে চড়ে নদী দেখতে ও সেই সাথে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু যেহেতু ঘাট থেকে ট্রলার চলাচল প্রায় অচল তাই পর্যটকরাও ঘাটমুখী হচ্ছে কম। এতে আমাদের ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ঘাটসংলগ্ন চরটি কেটে ঘাটের কাছে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। নতুবা বর্তমানে পর্যটক নির্ভর এ ঘাটের সর্বশেষ জৌলুসটিও আর থাকবে না।
শিমুলিয়ি নদী বন্দরের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ খান জানান, ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীর কাছে একটি চর পড়ে ঘাট ও চরের মাছে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। নদী থেকে এই খালে পর্যটকবাহী ট্রলারগুলো যাতায়াত করতে পারছে না। এতে পর্যটকরা বিরক্তবোধ করছে এবং ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) শীঘ্রই এই চরটি কেটে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় সকল মহলের সহযোগিতা না থাকলে এই চর কাটা সম্ভব হবে না। আশা করছি, এলাকাবাসী এ ব্যাপারে সকল সহযোগিতা করবে।
