মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার মুরমা মৌজায় নগর কসবা পঞ্চায়েতের ওয়াকফা এস্টেটভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে দখলচেষ্টার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অবৈধ হস্তক্ষেপ ও জোরপূর্বক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে নগর কসবা পঞ্চায়েত কমিটি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও বিরোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্পত্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কমিটির সদস্যরা। পঞ্চায়েত কমিটির অভিযোগ, মিরকাদিম পৌরসভার মুরমা মৌজার দাগ নং ৩৪৭, ৩৫১, ৩৫২, ৩৩৯, ৩৫৫, ৩৫০ ও খতিয়ান নং ৪৪৮—এর অন্তর্ভুক্ত দীর্ঘদিনের ওয়াকফা এস্টেটভুক্ত সম্পত্তিতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বেআইনি ভাবে হস্তক্ষেপ করে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এভাবে চলতে থাকলে সম্পত্তিটি বেদখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কমিটির সদস্যদের দাবি, সময়মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সম্পত্তির সীমানা, দখল ও মালিকানা নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিও ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সম্পত্তির সীমানা, অবস্থান, মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ হস্তক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওয়াকফা সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
নগর কসবা পঞ্চায়েত কমিটির সহ—সভাপতি মো: দিলদার হোসেন বলেন, বিরোধের সূত্রপাত হওয়ার পর নয়, বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ওয়াকফা সম্পত্তি রক্ষা, সম্ভাব্য দখলচেষ্টা প্রতিরোধ এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা ও ভূমি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছি।
ইউএনওর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর নগর কসবা পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে সম্পত্তি ও পুকুর রক্ষায় ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, পুকুরের অতিরিক্ত পানি সেচ ও নিষ্কাশনের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করা; তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা; পুকুরের পাড়, তলদেশ ও আশপাশের জমির মাটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
এ ছাড়া নগর কসবা পঞ্চায়েতের ওয়াকফা এস্টেটভুক্ত সম্পত্তির সীমানা ও অবস্থান সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী যাচাই, অবৈধ দখলের অপচেষ্টা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পৌরসভার উন্নয়নকাজের কারণে ইতিমধ্যে কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে তা নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণ, প্রতিকার ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তাঁদের মতে, যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ওয়াকফা সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি সম্ভাব্য বিরোধ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিও এড়ানো সম্ভব হবে।
