সাদেকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার বিশ্ব নদী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ব্রিটিশ কলম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ১৯৮০ সালে থেকে পালন করলেও আমাদের দেশে ২০১০ সাল থেকে “রিভারাইন পিপল” নামের বেসরকারি সংস্থ্যা বিশ্ব নদী দিবস পালন করা শুরু করে।
সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে দূষিত নদীর তালিকায় বুড়িগঙ্গা আর তুরাগ থাকলেও, পরিবেশবাদী সংগঠনের মতে “লবণদহ” বাংলাদেশের সবচেয়ে দূষিত নদী। সোনালী ইতিহাসের লবলং সাগর কালের বিবর্তনে লবণদহ নদী আর কিছু কিছু অংশের খালে পরিনত হয়েছে। যাকে “বিষের নহর” বললেও কম হয়ে যাবে। মাছ তো দূরের কথা পাবেনা ব্যাঙ কিংবা কোন প্রকার জলজ জীবনের অস্তিত্ব।
গত এক যুগেও হয়নি সীমানা নির্ধারণ, তাই চলছে অবাধে দখল ও দূষণের প্রতিযোগিতা। লবণদহ ছাড়াও গাজীপুর সদরে দিয়ে বয়ে গেছে শালদহ ও পারুলীর কিছু অংশ। বর্ষায় নদীগুলো ভরা যৌবন দেখা গেলেও, লবণদহের দূষিত পানি সে সৌন্দর্যকে মলিন করে দেয়। শ্রীপুর থেকে ভাওয়াল মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত শত শত ওয়াশিং, ডাইয়িং, সিরামিক্স, ক্যামিকেল কারখানার বর্জ্যে শেষ নিশ্বাস গুনছে লবনদহ৷ পানিতে অক্সিজেনের উপস্থিতি মাত্রা ও বিদ্যুৎ পরিবাহীতার দিক থেকে লবণদহে জলজ উদ্ভিদ বসবাসের উপযোগিতা হাড়িয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। বিগত সময়ে ধুম্রজালের মত অজানা কারণে নদী রক্ষায় কোন শক্ত প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
নদী পারের মানুষ ফসল ফলাতে ব্যার্থ হয়ে বিক্রি করছে জমি, আর শিল্প উদ্দোক্তারা সস্তায় সে জমি কিনে ভরাট করে অবৈধভাবে ভূমির শ্রেণীর পরিবর্তন করছে, যা পানি সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী। এভাবে চললে আর কতদিন বাঁচবে লবনদহ। অপরাধের নিয়ন্ত্রণ না করলে এভাবেই একে একে শেষ হয়ে যাবে আরো অনেক নদী। আর কবে শক্ত পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন? এদিকে শেষ নিশ্বাস গুনছে লবণদহ!
