আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা—ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীবাজার অংশ দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী ও পরিবহন চালকদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদা মাটিও পানি মিশ্রিত খালে পরিণত হয়। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টঙ্গীবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে তুরাগ নদীর বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ২৬০ মিটার সড়ক সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। শতাধিক খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাজধানীসহ উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
ঐতিহ্যবাহী পাইকারি কেন্দ্র টঙ্গীবাজারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন বেহাল দশায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। বাজারে আগত ক্রেতাদের ভোগান্তিও চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআরটি ফ্লাইওভার নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ অংশের সড়ক আর সংস্কার করা হয়নি। অস্থায়ী বেইলি ব্রিজও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে মহাসড়কের এই অংশ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। পণ্যবাহী গাড়ি প্রায়ই বিকল হয়ে যায়, অটোরিকশা বা ইজিবাইক উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। বাধ্য হয়ে বাজারের ভেতরের সরু শাখা সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে খরচ ও সময় দুটোই বাড়ছে। ফলে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গিয়ে টঙ্গীবাজার তার আগের জৌলুস হারাতে বসেছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানিয়েছে, টঙ্গীবাজার অংশ বর্তমানে বিআরটি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকায় তারা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।
বিআরটি প্রকল্প পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখনই কোনো সংস্কারকাজ করা সম্ভব নয়। তবে জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে টঙ্গীবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজধানীর আব্দুল্লাপুর পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের বিকল্প প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে টঙ্গীবাজারের ব্যবসা—বাণিজ্য পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে।
