মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ, বিদ্যালয়ে ২৫ জোড়া নতুন বেঞ্চ প্রদান, হলদে পাখির দলের দীক্ষা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব শিলমন্দির জেলা প্রশাসন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ উল্যাহ, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা, আত্মমর্যাদাবোধ ও বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠগ্রহণের পরিবেশ উন্নত করতে বিদ্যালয়ে ২৫ জোড়া নতুন বেঞ্চ প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সব শ্রেণিকক্ষ ও করিডোরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হলদে পাখির দলের দীক্ষা প্রদান করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন দলগত খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সচেতনতা বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আগামী বছর থেকে বিদ্যালয়ে স্কুল মিল চালুর ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা, পুষ্টি ও সার্বিক বিকাশের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সুযোগ—সুবিধা বৃদ্ধি, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের যোগ্য, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বিদ্যালয়, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
