বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: উত্তরের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির কারণে বন্যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া ভারতের কিছু অংশে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের আরো কয়েকটি অঞ্চলে হঠাৎ বন্যা হতে পারে।
ইতিমধ্যেই চাঁদপুরে মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ধনাগোদা ও ডাকাতিয়া নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে । কয়েকশ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে চরাঞ্চলের মানুষ।
তবে আগামী ৫দিনের মধ্যে পদ্মা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্রের পানি কমার সম্ভবনা আছে। ভারতের কিছু অংশে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে হঠাৎ বন্যা হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকোশলী (যান্ত্রিক) শওকত হোসেন জানান, ৩ দিন ধরেই মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি জানান, পূর্ণিমার কারণে জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলে কিছুটা বন্যা দেখা দিয়েছে । সেই সঙ্গে প্রবল বর্ষণেও নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ছে । চরাঞ্চলের অনেক ঘর, বাড়ি ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে বলেও জানা গেছে ।
উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় উজান থেকে বিশাল জলরাশি মেঘনায় প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে নামছে। এ কারণে মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এখন বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি বইছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থীতি নিয়ে কথা বলেছেন- বন্যা পুর্বাভাস ও সংকেত কেন্দের নির্বাহী প্রকৌশলি আমিরুল হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বন্যা পরিস্থীতির যে তথ্য আছে তাতে আগামী ৫ দিনে পদ্মা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র, গঙ্গা নদীর পানি কমার সম্ভবনা আছে। প্রধান নদ-নদীর পানি আগামী ১০ দিন পর্যন্ত ধীরে ধীরে কমবে।
আমিরুল হোসেন বলেন, পাহাড়ি ঢলে যে সব জেলায় বন্যা হয়, উত্তর পূর্ব সিলেট, সিলেট,সুনামগঞ্চ, নেত্রকোণা, জামালপুরের কিছু অংশ এবং শেরপুর। উত্তরাঞ্চলে কুড়িগ্রাম, নীলফামারি জেলায় পাহাড়ি ঢলের কারণে আগামী দুই দিন বন্যা পরিস্থীতি তৈরি হতে পারে। সকাল পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি ঢালিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি নির্ভর বন্যা যেখানে হয় সেই সব এলাকাতে বৃষ্টির পুর্বভাস যা বলছে তাতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। আসাম এবং মেঘালয় অঞ্চলে আগামী এক দুই দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা আছে। সে কারণে পাহাড়ি ঢলের কারণে যে সব এলাকায় বন্যা হয় সে সব এলাকায় বন্যা হওয়ার আশঙ্কা আছে।
