Skip to content

কায়রোর ইমান মসজিদে এখন লাশের গন্ধ

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ মিশরের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থনে দুটি অবস্থান ধর্মঘট বানচাল করতে পুলিশের তাণ্ডবলীলার একদিন পর কায়রোর রাস্তা এখনও থমথমে। জরুরি অবস্থা উঠিয়ে নেয়ার পরও বৃহস্পতিবার কায়রোবাসীর সকাল শুরু হয় বেশ দেরিতেই। কায়রোর কিছু এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আবার শুরু হওয়াটা তেমন সহজ নয় বলাই বাহুল্য। কেননা কমপক্ষে ৫২৫ জন্য মানুষের মৃত্যুর হাহাকার এখনও কায়রোর বাতাসে বিরাজমান। গিজাতে শত শত মুরসি সমর্থক স্থানীয় সরকারি অফিস ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপরই সরকার রাষ্ট্রীয় ভবনে হামলা করতে উদ্যত হলে যে কাউকে গুলি করার অনুমতি দিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। নাসর শহরের আল-ইমান মসজিদের পার্শ্ববর্তী এলাকার রাবা আল আদাউইয়া মসজিদে ৪৭ দিনব্যাপী নজরবন্দি অবস্থার অবসানের পর বুধবারের ধ্বংসযজ্ঞে নিহত শত শত মানুষের লাশ লাইন দিয়ে ফেলে রাখা আছে। আল-ইমান মসজিদই এখন অস্থায়ী মর্গ। কাফনে মোড়া এবং বরফ দিয়ে রাখা অধিকাংশ মৃতদেহেই গুলির চিহ্ন। কিছু মৃতদেহ পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। বলা চলে যাদের মৃতদেহ শনাক্ত করা দুরূহ। স্বজনদের জন্য এসব মৃতদেহের মধ্যে নিজ পরিবারের হতভাগ্য সদস্যদের খুঁজে বের করা অসম্ভব বলা চলে। এমনই একজন দুর্ভাগা সমর বাদরিদিন। আল-ইমান মসজিদে স্বামীর লাশ খুঁজতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে জানালেন, ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করে তার মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, লাশ খুঁজে পাচ্ছি না। তার সঙ্গে কোন অস্ত্র ছিল না যে তিনি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করবেন। বাদরিদিনের স্বামী আয়মেন মোহামেদ জাকায়াদিন (৪৫) ছিলেন একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তার ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী ৪ সন্তান আজ পিতৃহারা। শেষবারের মতো স্বামীর চেহারা দেখারও সৌভাগ্য জুটলো না বাদরিদিনের। আয়মেনের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল সকাল ৯টায়। দুপুর ৩টায় তার বন্ধু ফোন করে জানায় আয়মেন মারা গেছে। এতো এক পরিবারের গল্প। এ রকম হয়তোবা এর থেকেও নির্মম আরও ঘটনা রয়েছে এক-একটি মৃতদেহের সঙ্গে। অবস্থান ধর্মঘটে আক্রমণ শুরু হওয়ার পর অনেকেই নিজ হাতে নাম লিখে রেখেছিলেন যেন মৃত্যুর পর তাদের লাশ শনাক্ত করতে পারে পরিবারের সদস্যরা। লাশের প্রতিটি লাইনের শেষে একটি কার্ডবোর্ডে মৃতদের নাম তালিকা করা রয়েছে। অবস্থান ধর্মঘট হটিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে দিনব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজিরবিহীন অভিযানে ৫২৫ জন মৃত্যুবরণ করলেও সরকারের পক্ষ থেকে এটাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং সফল অভিযান বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। যাদের কাছে মুরসি সমর্থকদের অবস্থান ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত অবান্তর এবং ভুল পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত তাদের কাছে বুধবারের অভিযানে নিহত হওয়ার ঘটনা সহজেই গ্রহণযোগ্য। অবস্থান ধর্মঘটের চারপাশ দিয়ে যখন ধোঁয়ার শিখা উঠতে থাকে, মুহুর্মুহু গুলির শব্দে রাবা স্কয়ার যখন প্রকম্পিত তখন পুলিশ লাইনের পাশে মিশরের আর্মিপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ এল সিসি এবং কায়রো পুলিশের নামে জয়জয়কার ধ্বনি দিয়েছে জনতার দল। অভিযানের ৫২৫ জনজীবন হারানোর পর মিশরের এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আল-জাজিরাকে বলেছিলেন, এটা গ্রহণযোগ্য ক্ষতি যেটা রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণের জন্য মানুষ মেনে নেবে। কিন্তু আসলেই কি এতগুলো মৃত্যু মেনে নেয়া সহজ? গ্রহণযোগ্য ক্ষতির ধারণা আল-ইমান মসজিদে শত শত মৃতদেহ এবং স্বজনদের হাহাকারের মধ্যে খুঁজে পাওয়া দুরূহ। সেখানে মৃত্যুর গন্ধ, এয়ার ফ্রেশনারের সুগন্ধির সঙ্গে মিশে অবর্ণনীয় এক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। রক্তাক্ত আর দগ্ধ মৃতদেহের মধ্যে স্বজনরা খুঁজে ফিরছে প্রিয়জনের লাশ।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫