Skip to content

আইন মন্ত্রণালয়ের রূপরেখা

স্টাফ রিপোর্টার ॥  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার পদ্ধতির রূপরেখার সন্ধানে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের  লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দলের ৫ জন ও বিরোধী দলের ৫ জনসহ মোট ১০ জন মন্ত্রীর ছোট্ট মন্ত্রিসভা করার কথা রূপরেখায় বলা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া চিঠির আলোকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রূপরেখা খোঁজা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ অন্তর্র্বতীকালীন সরকার পদ্ধতির রূপরেখা তৈরি করতে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কাজ শুরু করেছেন।

নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা না হলেও রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। রূপরেখার বিষয় নিয়ে এরই মধ্যে সংসদ নেতা ও স্পিকারের মধ্যে একদফা আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকারকে অবহিত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করতে বলা হয়েছে ওই চিঠিতে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি এবং সম্ভাব্য উপায় খুঁজে বের করেছি। সরকার যখন চাইবে তখনই এই রূপরেখা হস্তান্তর করা হবে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে অনড় রয়েছে। আর সরকার নির্বাচনের রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়কে। আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ রূপরেখা প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান হবেন। আর রাষ্ট্রপতির অনুমতিতে ছোট্ট একটি মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। প্রধান বিরোধী দল থেকেও এ মন্ত্রিসভায় সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

অন্তর্র্বতীকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে সরকারের বাইরেও ফর্মুলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সুশীল সমাজের অনেকেই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রূপরেখা/ফর্মুলা দিচ্ছেন বা দিতে চাচ্ছেন। তারা বলছেন, সরকার ইচ্ছে করলে রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে তাদের দেয়া ফর্মুলা থেকে সহযোগিতা নিতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এ প্রসঙ্গে বলেন, সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই সর্বদলীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধান করা যায়।  সেক্ষেত্রে সংসদের একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম কিংবা ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান ও ফজলে হাসান আবেদের মতো একজনকে নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান করা হলে কারও আপত্তি থাকবে না। তিনি বলেন, উল্লিখিত ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করলে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আমার মূল্যায়ন হচ্ছে এক-এগারোর পর রাজনীতিবিদরা নিজেদের বলীয়ান করেছেন। নাগরিক সমাজের কণ্ঠ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই এ মুহূর্তে নাগরিক সমাজ রাজনীতিবিদদের এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত আছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নানা কৌশলে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের ব্যাপারে রূপরেখা নিয়ে কোনো প্রস্তাব দিচ্ছে না। তাই নাগরিক সমাজ এই সঙ্কট নিরসনে একটি সমাধানের রূপরেখা দিতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের নতুন কোনো ফর্মুলা নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা সংবিধানেই রয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে ফর্মুলা ছিল, তা সংবিধানে পুনর্বহালের উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে। এ ফর্মুলার নাম ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ যদি সরকারের ভালো না লাগে তাহলে ভিন্ন কোনো নাম দেয়া যায়। কিন্তু আগামী নির্বাচন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

তবে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নয়, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের অধীনে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে। যাদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে (সরকারি দল ও বিরোধী দল) তাদের মধ্য থেকে ৫ জন সংসদ সদস্য নিয়ে এ ধরনের সরকার গঠন হতে পারে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫