স্পোর্টস ডেস্ক ॥ কুইন্টন ডি কক আর হাশিম আমলা শুরুটা করেছিলেন একই রকম, প্রথম ওয়ানডের চেয়েও বড় জুটি গড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার। তবে জেপি দুমিনি আর এবি ডি ভিলিয়ার্স সেই ঝড়টা তুলতে পারেননি বলে স্কোরটা ঠিক জোহানেসবার্গের প্রথম ম্যাচের মতো বড় হয়নি। ৩৫ ওভারে ১৯৪ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ৪৯ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮০ রান তো কমই! কিন্তু লনওয়াবো সৎসোবে, ডেল স্টেইন, মরনে মরকেল, ভারনন ফিল্যান্ডারদের চতুর্মুখী পেস আক্রমণের মুখে সেটাই অনেক বড় হয়ে উঠেছে ভারতের জন্য।
২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে প্রোটিয়াদের পেস আগুনে দগ্ধ ভারত ৩৪ রানেই হারায় টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানস- শিখর ধাওয়ান (০), রোহিত শর্মা (১৯), বিরাট কোহলি (০) ও আজিঙ্কা রাহানেকে (৮)। পঞ্চম উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়ে খানিকটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি আর সুরেশ রায়না। ১৯ রানে ধোনির বিদায়ের পর রায়নাও ফেরেন ৩৬ করে। শেষ পর্যন্ত ৩৫.১ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে হেরেছে ১৩৪ রানে।
ডারবানের কিংসমিডকে বিবেচনা করা হয় ফাস্টবোলারদের স্বর্গরাজ্য। সকালের শিশিরভেজা উইকেটে সেখানে স্টেইনদের মুখোমুখি হতে চাননি বলেই হয়তো ধোনি টানা দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন। ভারতের বোলিং লাইন আপের চেহারাটাও এ ম্যাচে ছিল অন্য রকম, ভুবনেশ্বর কুমার আর মোহিত শর্মার জায়গায় ইশান্ত শর্মা ও উমেশ যাদবকে নেওয়া হয়েছে একাদশে। কিন্তু তাতে মাঠের পারফরম্যান্সে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি! ডি কক আর আমলার ব্যাটিংয়ে ছিল না কোনো তাড়াহুড়ো, দেখে-শুনে, ধীরেসুস্থেই এগিয়েছেন তাঁরা আগের দিনের মতোই। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করা ডি কক ১০৬ রান করতে খেলেছেন ১১৮ বল, ৯টি বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। আমলা আর হার্শেল গিবসের পর মাত্র তৃতীয় দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে টানা দুটি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করলেও এখন পর্যন্ত পঞ্চাশ পেরোনো সবগুলো ইনিংসেই সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া এ তরুণ উইকেটকিপার। আগের ম্যাচে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা আমলাকে এদিন আর সেই হতাশায় পুড়তে হয়নি। ৮টি বাউন্ডারিতে সাজানো ১১৭ বলের ইনিংসে ঠিক ১০০ রান করে আউট হওয়ার পথে দারুণ একটি রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন তিনি, সবচেয়ে কম ইনিংসে চার হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলার রেকর্ড থেকে মুছে দিয়েছেন স্যার ভিভ রিচার্ডসের নাম। আমলার এটি ৮১তম ইনিংস, ভিভের লেগেছিল ৮৮ ইনিংস!
৩৬তম ওভারের প্রথম বলেই ডি কককে ফিরিয়ে এ জুটি ভেঙেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। পরের ওভারেই এবি ডি ভিলিয়ার্সকে (৩) ধোনির স্টাম্পিংয়ের শিকার বানিয়ে অন্য স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা ভারতকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে এনেছিলেন লড়াইয়ে। ৩৬ থেকে ৪৮, এই ১৩ ওভারে ভারতের বোলাররা মাত্র ৬৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট তুলে নেওয়াতেই আগের ম্যাচের মতো আকাশছোঁয়া হয়নি স্বাগতিকদের ইনিংসটা। তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন আগের ম্যাচের একমাত্র সফল বোলার মোহাম্মদ সামিই, ৪৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে শেষ ওভারে ২০ রান তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পৌঁছে গেছে ২৮০ রানে। ক্রিকইনফো
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা : ৪৯ ওভারে ২৮০/৬ (ডি কক ১০৬, আমলা ১০০, ডি ভিলিয়ার্স ৩, দুমিনি ২৬, মিলার ০, ক্যালিস ১০, ম্যাকলারেন ১২*, ফিল্যান্ডার ১৪*; সামি ৩/৪৮, অশ্বিন ১/৪৮, জাদেজা ১/৪৯)।
