Skip to content

রিয়াল নাকি জুভেন্টাস

স্পোর্টস ডেস্ক ॥
ঢাকা : ঘরের মাঠ, চেনা পরিবেশ। গ্যালারি থেকে ভেসে আসা ‘মাদ্রিদ, মাদ্রিদ, হালা মাদ্রিদ’ সুরের ঝংকার। গোটা ম্যাচে সমর্থকদের গলা ফাটানো চিৎকারের কথা না-ই বা বলা হলো। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর এত সুবিধা কাজে লাগিয়ে ১ গোলের ব্যবধান কমাতে পারবে না রিয়াল মাদ্রিদ!
খুবই সম্ভব। যে দলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো গোলমেশিন আছেন, তাদের ২-১ গোলের ব্যবধান কমিয়ে জেতাটাই কি উচিত নয়! সঙ্গে আবার এটা ভুললেও চলবে না প্রতিপক্ষ হলো জুভেন্টাস। যাদের রক্ষণ পরীক্ষিতভাবে বিশ্বসেরা। প্রথম লেগে কিন্তু পর্তুগিজ যুবরাজকে ঠিকই বন্দি করে রেখেছিলেন কিয়েল্লিনি-বনুচ্চিরা। বার্নাব্যুর ফিরতি লেগে আজ আরেকবার হলেই তো হয়!
প্রতিপক্ষের মাঠ হলেও তাই আজ সুবিধাজনক জায়গায় থেকে মাঠে নামবে জুভেন্টাস। তা ছাড়া ইতিহাসও সঙ্গ দিচ্ছে তাদের। নকআউট রাউন্ডে রিয়ালের বিপক্ষে খেলা চার ম্যাচের তিনটিই জিতেছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। তাই ঘরের মাঠেও রিয়াল থাকবে চাপে। চাপটা আরো বেড়ে গেছে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে শনিবার লিগ ম্যাচে ২ গোল হজম করার পর। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করলেও রক্ষণের দুর্বলতা ধরা পড়েছে স্পষ্টভাবে। গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই রিয়াল হজম করেছে দুটি করে গোল। আজও যদি তা-ই হয়, সে ক্ষেত্রে ফাইনালে যেতে হলে রিয়ালকে দিতে হবে ৪ গোল। আর ইতালিয়ান ক্লাবটি একবার লক্ষ্যভেদ করলে ফাইনাল নিশ্চিতের জন্য তখন ৩ গোল দিতে হবে রিয়ালকে। আর যেকোনোভাবে ড্র হলেও ফাইনালে চলে যাবে জুভেন্টাস। তার মানে গোল করা ছাড়া কোনো উপায় নেই রিয়ালের। এ জন্য অবশ্য সতীর্থদের মাথা গরম না করার পরামর্শ ডিফেন্ডার দানি কারভাহালের, ‘আমাদের জিততেই হবে, জয় ছাড়া উপায়ও নেই। এর পরও মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে, কোনো রকম পাগলামি করা যাবে না। ম্যাচটা ৯০ মিনিটের, আর জুভেন্টাসের সামনে নিজেদের চেনানোর মতো যথেষ্ট সময় পাব।’
তুরিনের প্রথম লেগে রিয়ালের রক্ষণ এলোমেলো করে দিয়েছিলেন কার্লোস তেভেজ। আজও ঝড় তুলতে প্রস্তুত কালিয়ারির বিপক্ষে লিগ ম্যাচে বিশ্রামে থাকা আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। ওই ম্যাচ দিয়েই আবার চোট কাটিয়ে দুই মাস পর মাঠে ফিরেছেন পল পগবা। আর ফেরার উপলক্ষটা তিনি রাঙিয়ে নিয়েছেন গোল করে। ফরাসি মিডফিল্ডারের ফেরায় জুভেন্টাসের শক্তি বেড়ে গেছে আরো। যদিও একাদশে থেকে তাঁর নামার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি সম্ভবত আস্থা রাখছেন প্রথম লেগে মাঝমাঠে খেলা স্তেফানো স্তুরারোর ওপরই।
কার্লো অ্যানচেলত্তিও মাঝমাঠে আস্থা রাখছেন সের্হিয়ো রামোসের ওপর। যদিও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে খেলেছেন তিনি। ওই ম্যাচে আবার চোট পেয়ে টোনি ক্রোস মাঠের বাইরে চলে গেলে বড় এক ধাক্কাই খেয়েছিল ‘লস ব্লাঙ্কোরা’। অবশ্য সোমবার জার্মান মিডফিল্ডারের অনুশীলন করা এবং অ্যানচেলত্তির ‘দুশ্চিন্তার কিছু নেই’ মন্তব্যের পর পরিষ্কার হয়ে গেছে আজ খেলছেন তিনি। হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফিরেছেন করিম বেনজিমাও। তবে শুরুতে বেঞ্চেই বসতে হবে ফরাসি স্ট্রাইকারকে। এক মাস পর মাঠে ফেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিশ্চয়ই ঝুঁকি নেবেন না অ্যানচেলত্তি। ফরোয়ার্ডে তাই রোনালদো-বেলের সঙ্গে হামেস রোদ্রিগেসের থাকার সম্ভাবনাটাই বেশি। সে ক্ষেত্রে কপাল পুড়বে হাভিয়ের এর্নান্দেসের।
এক যুগ আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের এই সেমিফাইনাল পর্বে রিয়ালকে হারিয়ে শেষবার ফাইনালে উঠেছিল জুভেন্টাস। তাই ২০০৫ সালে তুরিনের ক্লাবটিতে নাম লেখানোর পর ফাইনালের স্বাদ পাওয়া হয়নি জর্জিও কিয়েল্লিনির। এবার সেই খরা কাটানোর ব্যাপারে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী ইতালিয়ান ডিফেন্ডার। তবে দলটা রিয়াল বলেই তাঁর সতর্কবার্তা, ‘এতটা কাছে আমরা কখনো যেতে পারেনি, তবে এখনো ৯৫ মিনিটের কঠিন পথ পার হতে হবে আমাদের। ফাইনাল এখনো অনেক দূরে। আর সেখানে যেতে হলে দুর্দান্ত পারফর্ম করতে হবে আমাদের।’
বার্নাব্যুর ইতিহাস বলছে রিয়াল-জুভেন্টাসের ম্যাচ ড্রতে শেষ হয়নি কখনো। রেকর্ডটা অক্ষুণ্ন রেখে রিয়াল যদি জেতে এবং নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ফল নির্ধারণের জন্য ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে, তাহলে? অন্য রকম এক উত্তেজনার মঞ্চই তৈরি হবে বার্নাব্যুতে। বিশ্বের সেরা দুই গোলরক্ষক- বুফন বনাম কাসিয়াসের লড়াই। মন্দ হয় না, কী বলেন!

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫