স্পোর্টস ডেস্ক ॥
ঢাকা: ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষনীয় সিরিজ কোনটি? এমন প্রশ্ন করলে যে কেউ উত্তর দেবে পাকিস্তান-ভারত সিরিজের কথা। কিন্তু এমন আকর্ষনীয় সিরিজটাই কি না বন্ধ রয়েছে প্রায় ৭ বছর। ২০০৮ মুম্বাই হামলার পর থেকে দু’দেশের সম্পর্কও আর উষ্ণ হয় না, দ্বিপাক্ষিক সিরিজও শুরু হয় না।
তবে এবার সম্ভাবনা ছিল, আগামী ডিসেম্বরে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার। কিন্তু এরই মাঝে পাঞ্জাবে সন্ত্রাসী হামলার পর আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে দু’দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধ না হলে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে কোন সিরিজে খেলবে না। তবুও ক্ষীণ একটা আশা ছিল। যদি দু’দেশের সরকার পর্যায়ে কোন নমনীয়ভাব দেখা দেয়!
কিন্ত দু’দেশের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরস (এনএসএ) বোর্ডের মধ্যে যে মিটিং হওয়ার কথা ছিল তা হঠাৎ করে স্থগিত হয়ে যাওয়া, এখন সে ক্ষীণ আশাও শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান।
পাকিস্তানের সাবেক এই কুটনীতিক বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এনএসএ-র বৈঠকে অনেক বরফই গলতে পারে। দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মীমাংসার পাশাপাশি দু’দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক চালুর ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে। কিন্তু বৈঠকটি ভেঙে যাওয়ার কারণে, এখন সেই আশাও শেষ হয়ে গেছে।’
সিরিজ আয়োজন যে আর হচ্ছে না এ ব্যাপারে শাহরিয়ার খান বলেন, ‘সিরিজটা আর আলোর মুখ দেখছে না। এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এটা ক্রিকেটের জন্যই বড় ধরনের একটা ক্ষতি। তবে আমরা চেষ্টা করে যাবো। আমি মনে করি না, রাজনীতির কারণে ক্রিকেট সমস্যায় পড়ুক। আমরা সব সময়ই বলে এসেছি, রাজনীতি এবং খেলা দুটো আলাদা থাকা উচিৎ। দুটোই নিজের জায়গা থেকে স্বতন্ত্র। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ভারত তো আমাদের মত করে ভাবে না।’
বিসিসিআই সচিব অনুরাগ ঠাকুর গত শনিবার বলেছেন, পাকিস্তান দাউদ ইব্রাহিমদের মত গডফাদারদের লালন করবে আর বলবে ক্রিকেট খেলতে চাই- তাহলে তো দুটো এক সাথে চলতে পারে না।
পিসিবি প্রেসিডেন্ট শাহরিয়ার খান সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের এনএসএ উপদেষ্টা শরতাজ আজীজের সঙ্গে। তার কাছে জনাব খান জানতে চান, দু’দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক পূনঃ শুরু করার সম্ভাবনা সম্পর্কে। কিনি শরতাজ আজীজকে অনুরোধ করেন এ ব্যাপারে একটা পদক্ষেপ কিভাবে নেওয়া যায় সে চিন্তা করতে।
একই সঙ্গে শাহরিয়ার খান ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনারকে অনুরোধ করেন, ডিসেম্বরে সিরিজ যেভাবেই হোক আয়োজন করার জন্য। প্রয়োজনে প্ল্যান ‘এ’ কার্যকর না হলে প্ল্যান ‘বি’ নিয়ে কাজ করতে হবে।
