হায়দার হোসেন
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
মাছে ভাতে বাঙ্গলী প্রবাদটি চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। শত বছরের পুরানো এই প্রবাদটি শুধু কথার কথাই না। এটা বাঙ্গলীর জীবনের সাথে মিলেমিশে একাকার। প্রবাদ বাক্যটি যেন মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সোজাসাপ্টা কথা হলো প্রতিদিনই খাবারে তালিকায় মাছ না থাকলে যেন পেট ভরে খাওয়া হয় না। অপূর্ণতা রয়ে যায়। প্রতি বেলায় খাওয়ার সাথে মাছ চাই চাই। মোট কথা এটা জীবন ধারণের একটি বড় অংশ জুড়েই রয়েছে মাছের আধিক্য। শুধু মাছ হলেই চলে না চাই পছন্দসই মাছ। আর সেই পছন্দের তালিকায় প্রথমেই থাকে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বিশেষ করে গ্রাম বাংলায় আতিথীয়তায় দেশীয় মাছ না থাকলে যেন অসম্পূর্ণ থাকে অতিথি সেবাও। দিন দিন সেই প্রথা বিলুপ্ত হতে চলেছে। হারিয়ে যাচ্ছে অর্ধশত দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। প্রায় বিলুপ্ত হতে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ।
দিনদিন গোপালগঞ্জ জেলার সর্বত্রই এবং জেলার বিভিন্ন নদী বিল বাওড় ও হাটবাজারে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে। বর্ষার শুরুতেই জেলার বিভিন্ন নদী, খাল বিলে সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ম্যাজিক জাল, সুতিজাল, ভেসাল, বেহুন্দী জাল দিয়ে অবাধে বেপরোয়া ভাবে মাছ শিকারীরা মাছ শিকার করছে। বর্ষা শুরু সাথে সাথে মাছ ডিম ছাড়ার আগেই শিকারীদের জাল আটক হচ্ছে ছোট বর মাছ ও মাছের পোনা। ফলে দেশীয় মাছ তাদের বংশ বিস্তার করতে পারছে না। ফলে জেলার জলাশয়ে দেশীয় মাছ তাদের বংশ বিস্তার করতে পারছে না। দিন দিন দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। দ্রুতগতিতে জেলা এলাকা দেশীয় মাছ শুন্য হয়ে পড়ছে। এক সময়ের এই এলাকায় বোয়াল, শোল, গজার, কৈ, শিং, মাগুর, স্বরপুটি, পাতি পুটি, ক্যালকে টাটকেনি, বাচা, গাইড়ো, বাশঁপাতা, মাগুর, রুই ,কাতল, মৃগেল, টেংরা, পুটি, রয়না, খয়রা, গুইতে, বাইম, টাকি, খলসে, আইড় ,চিংড়ি, রিটা, বেলে, পাবদা, কালিবাউস, রঙিন বেতাগা, মলা ঢেলাসহ প্রায় অর্ধশর্ত প্রকার জনপ্রিয় দেশীয় মাছ এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে। এর মধ্যে রঙ্গিন বেতাগা, বাশঁপাতা, স্বপুটিঁ, বোয়াল, রিটা, পাবদা, রয়না, আইড় মাছের দেখা পাওয়াই যেন সৌভাগের ব্যাপার।
এলাকাবাসী জানায়, বর্ষার পানি আসার সাথে সাথেই অসাধু লোকজন সরকার নিশিদ্ধ ইলেক্ট্্রিক সর্ট, কারেন্ট জাল,ম্যাজিক জাল, ভেসাল, বেহুন্দী জাল, সুতিজালের অবাধ ব্যাবহার মাছের প্রজনন শেষ করে দেয় এবং এসব জাল দিয়ে ছোট ছোট মাছ ও মাছের ডিমসহ শিকার করে নেয়। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে পুকুর মালিকরা তাদের পুকুর একাধিক বার সেচ দিয়ে মাছ ধরে। আবার এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোকজন সরকারি খালগুলি ক্ষমতা খাঁটিয়ে বিক্রি করাসহ অবৈধ্য ভাবে সেচ দিয়ে মাছ ধরে ফেলে। ফলে মাছের নতুন প্রজনন বাধা গ্রস্ত হচ্ছে। যে কারণে মাছের বংশ বৃদ্ধি বাধা গ্রস্ত হচ্ছে।
জেলার নদী খাল বিল বাওড়সহ বিভিন্ন জলাশলে বসবাসকারি মাছ ও শামুকসহ কোন প্রকার জলজ প্রাণী রক্ষা পাচ্ছে না। জলে বসবাসকারি সাপ, ব্যাঙ, পোকা—মাকড়, শামুক বিশেষ করে বেহুন্দী জাল ও ম্যাজিক জালে আটকে গিয়ে নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে। কিছইু ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।
একদিকে সরকারি নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার অন্যদিকে কৃষি জমিতে সার ও কিটনাশকের অবাধ ব্যাপক ব্যবহারে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির দিকে ঢেলে দিচ্ছে।
দেশীয় মাছ রক্ষা ও অবৈধ্য জাল ব্যাবহার বন্ধে ইতিমধ্যে কাশিয়ানী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা জান্নাত বলেন, উপজেলা মৎস্য বিভাগ ইতিমধ্যে কাশিয়ানী উপজেলার বিভিন্ন খাল বিলে ১২/১৪ টি অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই হাজারেও বেশী নিষিদ্ধ ম্যাজিক জাল এবং কয়েক হাজার মিটার কারেন্ট জাল আটক করে ধ্বংস করেছে। জেলার পাচঁটি উপজেলায় একই ভাবে নিয়মিত অভিযান চালালে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
কাশিয়ানী উপজেলা মৎস্য অফিসার আনিচুর রহমান প্রধান বলেন, এ বছরে আমি দ্বায়িত্ব পাবার পরে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। অভিযানে অর্থ বরাদ্ধ কম বলে কষ্ট হয়। প্রতিদিনই অভিযান করা দরকার। না হলে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। যত কষ্ট হোক না কেন আমার উপজেলায় অভিযান চলবে। তবে জেলার সব উপজেলায় একই ভাবে অভিযান চালালে ভালো ফল পাবো মনে করছি।
এসব পদক্ষেপ নিলেও কোন প্রকার লাভ হচ্ছে না। দ্বিগুণ হারে বেড়ে চলছে এ সব নিশিদ্ধ জালের ব্যাবহার।
নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহারের কথা স্বীকার করে জেলা মৎস্য অফিসার বিজন নন্দী জানান, দেশীয় মাছ রক্ষার নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারিদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এদের নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে।
গোপালগঞ্জে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে নিষিদ্ধ জালের সয়লাব
আপডেট :July 9, 2025
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
