বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: চলতি মাসেই ঘোষণা আসছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির। নগর আওয়ামী লীগের উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্তি নিয়ে নানান মত আছে দলের ভেতর। তারপরও বিরোধী জোট মোকাবেলায় শক্তিশালী সংগঠন গড়তে শীঘ্রই কমিটি দেবে দলটি। আর সেটা এ মাসেই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র।
বর্তমানে ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
জানা গেছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি এলেই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ সংশ্লিষ্টরা তার সঙ্গে দেখা করবেন।
তবে মায়া সহ নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব ঢাকা মহানগরে এক কমিটির পক্ষে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বিষয়টি তারা সৈয়দ আশরাফের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তুলবেন বলে জানিয়েছে নগর আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
ধারণা করা হচ্ছে, এ মাসের মধ্যেই কমিটি ঘোষণা হবে এমন গুঞ্জন দলীয় নেতাদের মুখে মুখে। তবে কমিটিতে কারা থাকছেন সে বিষয়ে কৌতুহল এখন নগরীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের।
জানা গেছে গত ঈদুল ফিতরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি নগরের নেতাদের কাছে কয়েকজনের বিষয়ে জানতে চান। এর থেকে অনেকে ধারণা করছেন তাদের ভেতর থেকে কাউকেই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর ওই গুডলিস্ট অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতারা ধারণা করছেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে সভাপতি করা হতে পারে। যিনি এখন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ অথবা সাঈদ খোকন।
উত্তরে এ কে এম রহমতুল্লাহ এমপিকে সভাপতি করা হতে পারে। তিনি এখন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক খান, অথবা বর্তমান সহসভাপতি কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন। যেকোনো মুহূর্তে কমিটি ঘোষণা হতে পারে। কারা থাকছে ওই কমিটিতে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকেই আলোচনায় আছে। এটা সুনির্দিষ্টভাবে এখনই বলা যাবে না।
এ বিষয়ে সহ মত প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। তিনি বাংলানিউজকে জানান, নগরের কমিটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ নিয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। একটু জটিলতার কারণে কমিটি হচ্ছে না। নেত্রী খুব শীঘ্রই এর সুরাহা করবেন, এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই কমিটি ঘোষণা করা হবে।
২০০৩ সালের জুন মাসে ঢাকা মহানগর কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোহাম্মদ হানিফকে (প্রয়াত) সভাপতি এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুসারে কমিটির মেয়াদ ৩ বছর। ২০০৬ সালে মোহাম্মদ হানিফ মারা গেলে কয়েক হাত ঘুরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান এম এ আজিজ। এখন পর্যন্ত তিনিই ওই পদে অধিষ্ঠিত।
২০১২ সালে সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ১০৩টি ওয়ার্ড, ১৭টি ইউনিয়ন, ৪৯টি থানার মধ্যে কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানা বাদে সব কয়টি ইউনিটের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে, তবে কমিটি দেওয়া যায়নি। নেতারা জানিয়েছেন নগরের কমিটি হলেই যথাক্রমে সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানাগুলোর কমিটি দেওয়া হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
