মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার কর্মকর্তা মো:শরিফুজ্জামান সোহাগের (৪৩) জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে মুন্সুগঞ্জের আমলি আদালত—৩ এ তাঁর জামিনের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার এ আদেশ দেন। মুন্সীগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো:কামরুল ইসলাম মিঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শরিফুজ্জামান সোহাগ পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাপাতা গ্রামের আবুল কালাম সরকারের ছেলে। তিনি ঢাকার আদাবর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শরিফুজ্জামান সোহাগ ২০১৯ সাল থেকে শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির শ্রীনগর শাখায় ক্যাশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে অতিরিক্ত ১১ থেকে ১২ শতাংশ সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সিল ও ব্যাংকের ভাউচার ব্যবহার করে গ্রাহকদের গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে। পরে তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন মধ্য পাইকপাড়ায় তাঁর বোনের বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা, দুটি এটিএম কার্ড, একটি চেক বই, একটি চাবি ও তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার সূত্রে আরও জানা গেছে, একজন সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের আওতায় রয়েছে। শ্রীনগর থানার ইন্সপেক্টর মিল্টন দত্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে শরিফুজ্জামান সোহাগকে আদালতে পাঠান।
মুন্সীগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো: কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মামলার ধার্য তারিখ ছিল। আসামীকে আদালতে আনা হয়। তাঁর জামিনের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
