খুলনা ব্যুরো:
“পুলিশ জনগণের বন্ধু”—এ কথাটি শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে প্রমাণ করলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, পিপিএম।
রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দনপুর গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা হালিমা বেগম টিনের ছাউনি ও মাটির দেয়ালের একটি ছোট কুঁড়ে ঘরে একা বসবাস করতেন। স্বামী-সন্তান কেউ না থাকায় জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ভোরে অন্যের জমিতে কাজ করতে যেতেন তিনি।
গত ১৯ মার্চ, প্রতিদিনের মতো কাজের জন্য বের হলে আনুমানিক সকাল আটটার দিকে জানতে পারেন—বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে তার একমাত্র আশ্রয়স্থল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ডিআইজি রেজাউল হক বিষয়টি জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশে খুলনার পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে হালিমা বেগমের জন্য বসবাসযোগ্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়। বুধবার (১৬ এপ্রিল) ডিআইজি নিজেই নতুন ঘরটি পরিদর্শন করেন এবং হালিমা বেগমের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পাশাপাশি ঘরের ভেতরের প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র ও অন্যান্য উপহারসামগ্রীও প্রদান করেন তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, জনাব রাফিও এবং রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহফুজুর রহমান।
ডিআইজির এই মানবিক ও সহানুভূতিপূর্ণ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই বলেন, “এমন কাজই প্রমাণ করে পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলার বাহিনী নয়, বরং মানবতার আশ্রয়স্থলও।”
