মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম এলাকায় প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বহন করে আসছে ধবল বা সাদা গরু। ধবধবে সাদা শরীর, গোলাপি আভা, সাদা চোখের পাপড়ি, সাদা খুর ও শান্ত স্বভাবের কারণে এই গরু দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে দেশজুড়ে।
স্থানীয় খামারিদের ভাষ্য, সৌন্দর্যের পাশাপাশি সুস্বাদু মাংসের কারণেও ধবল গরুর চাহিদা অনেক বেশি। কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতি বছর এসব গরু বিক্রি হয় ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে।
একসময় কোরবানির ঈদে রহমতগঞ্জের গনি মিয়ার হাটে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল মিরকাদিমের ধবল গরু। এখনও পুরান ঢাকার শৌখিন ও অভিজাত ক্রেতাদের কাছে এই গরুর আলাদা কদর রয়েছে। আগে মূলত ঢাকার হাটে বিক্রি হলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা সরাসরি খামারে এসে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ঈদ সামনে রেখে মিরকাদিমের বিভিন্ন খামারে শুরু হয়েছে গরু বিক্রি।
খামারিরা জানান, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারত ও ভুটানের আবাল—পশ্চিমা জাতের সাদা ষাঁড় ও গাভীর বাচ্চা সংগ্রহ করে লালন—পালন করা হয়। দীর্ঘদিনের পরিচর্যা ও বংশবিস্তারেই তৈরি হয়েছে মিরকাদিমের ধবল গরুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
তাদের দাবি, লাভ—লোকসানের হিসাবের চেয়ে পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখার তাগিদেই এখনও অনেকে এই গরু পালন করে যাচ্ছেন।
শ্রমিক শফিক বলেন, আমরা নিজ সন্তানের মতো পরম যত্নে এখানে গরু লালন পালন করি। পুরো দিন ওদের সেবা করি। প্রতিদিন ২বার গোসল করাই এবং এগুলোর শরীর মুছে দেই। তিনবেলা গরুকে খাবার দেই। আমরা একদিকে যেমন শুকানো খাবার খৈল, কুড়া, ভূসি খুদ খাওয়াই অন্যদিকে আবার কাচাঁ ঘাস ভূট্টার সেরালেক খাওয়াই।
খামারিরা বলছেন, উচ্চ উৎপাদন খরচ, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত লাভ না পাওয়ার কারণে অনেকেই এই জাতের গরু পালন থেকে সরে যাচ্ছেন। এই ঐতিহ্যবাহী গরুর জাত সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ জরুরি। খামারিদের জন্য সহজ ঋণ, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা এবং বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হলে ধবল গরুর হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও গুণগত মানের কারণে মিরকাদিমের ধবল গরু শুধু একটি গবাদি পশু নয়, এটি মুন্সীগঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও একটি অংশ। যথাযথ উদ্যোগ না নিলে একদিন হয়তো এই ঐতিহ্য শুধু স্মৃতিতেই রয়ে যাবে।
