মোঃ আশিক মোল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়াব এলাকার মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৭) নামে এক কলেজছাত্রের লাশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বন্ধুদের সঙ্গে ৩০০ ফিট এলাকায় বেড়াতে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে দিগন্তকে হত্যা করে লাশ সেতুর নিচে ফেলে রাখা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কাঞ্চন সেতুর নিচ থেকে দিগন্তের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। নিহত মেহেদী হাসান দিগন্ত গাজীপুর মহানগরীর হাতিয়াব এলাকার সিরাজ মোড়লের ছোট ছেলে। তিনি গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ৩০০ ফিট এলাকায় বেড়াতে যান দিগন্ত। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তার সঙ্গে থাকা বন্ধু তুহিন পরিবারের সদস্যদের ফোন করে সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেন। খবর পেয়ে স্বজনরা বিষয়টি জানতে চেষ্টা করেন। পরে কাঞ্চন সেতুর নিচ থেকে দিগন্তের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
তবে ঘটনাস্থল ও মরদেহের অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তারা দাবি করছেন, দিগন্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিহতের বড় ভাই অভিযোগ করে বলেন, কয়েকজন বন্ধু বেড়ানোর কথা বলে পরিকল্পিতভাবে দিগন্তকে ৩০০ ফিট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যার পর লাশ কাঞ্চন সেতুর নিচে ফেলে রেখে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দিগন্তের সঙ্গে থাকা বন্ধুদের ভূমিকা, তাকে ৩০০ ফিট এলাকায় নেওয়ার প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর আগে ও পরে কী ঘটেছিল-এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, দিগন্তের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় তার সঙ্গে কারা ছিলেন, কীভাবে তিনি কাঞ্চন সেতুর নিচে গেলেন এবং এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডÑসব বিষয়ই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এইচ এম সালাহউদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য—প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মেহেদী হাসান দিগন্তের মৃত্যুর খবরে তার পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মোড়লপাড়া মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
তরুণ এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটন করে পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
