স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার সময় শেষ হচ্ছে বুধবার। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বড় দলগুলোর কেউ এখনী হিসাব জমা দেয়নি। কয়েকটি দল সময় চেয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছে। রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতার জন্য হিসাব নেয়া হলেও তবে এবারো এ হিসাব প্রকাশ করবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে কোনো বছরই এ হিসাবের সত্যতা যাচাই ও প্রকাশ কোনোটাই করা হয়নি। প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দলের আগের পঞ্জিকা বছরের হিসাব দেয়ার বিধান রয়েছে। ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, ৩৯টি দলের মধ্যে ২৯ জুলাই (সোমবার) পর্যন্ত মাত্র ৮টি দল তাদের বিগত বছরের আর্থিক লেন-দেনের হিসাব জমা দিয়েছে। দলগুলো হচ্ছে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, গণফোরাম, খেলাফত মজলিস, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। এছাড়া জাতীয় পার্টি-জেপি এক মাসের সময় চেয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার নির্বাচন কমিশনার মোঃ আবু হাফিজ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব দল আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেবে না, তাদের কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেয়া হবে। এরপরও যদি কোনো দল ব্যর্থ হয় সে েেত্র তাদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কেউ যদি সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করে তবে সে বিষয়ে কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, দলগুলো চাইলে তাদের হিসাব প্রকাশ করতে পারে। এটি তাদের দলীয় বিষয়। তবে ইসির প থেকে হিসাব প্রকাশের পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।
গত ১১ জুলাই ৩৯টি দলের সাধারণ সম্পাদক ও মহাসচিবদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেয়ার তাগিদ দিয়ে ইসি থেকে চিঠি দেয়া হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ(১)(সি) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো দল পরপর তিন বছর বার্ষিক লেন-দেনের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে কমিশন সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। বিভিন্ন দলের নেতাদের কাছে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নিবন্ধিত বেশিরভাগ দলেরই বার্ষিক লেন-দেনের হিসাব জমা দেয়ার বিষয়ে কার্যত তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই। এখনও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্ম দিয়ে অডিট কাজই শুরু করেননি তারা। যদিও দলগুলো বলছে তাদের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশন বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব দল অডিট রিপোর্টের কপি জমা দেবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৮-এর ধারা ৯(খ)-তে বলা হয়েছে, প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অব্যবহিত আগের বছরের সংশ্লিষ্ট দলের আর্থিক লেন-দেন একটি রেজিস্ট্রার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্ম দিয়ে অডিট করিয়ে সে রিপোর্টের একটি কপি নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে।
মতাসীন আওয়ামী লীগের হিসাব জমা দেয়ার বিষয়ে দলের উপদফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস জানান, দলের বার্ষিক হিসাবের কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই ইসিতে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়া হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই ইসিতে গিয়ে দলের হিসাব জমা দিতে পারি। আবার সময় বাড়ানোর জন্য আবেদনও করতে পারি। এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। জমা দেয়ার জন্য সব প্রস্তুতি আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোটামুটি প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।
যে বিষয়ে হিসাব দিতে হবে : বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের জন্য কমিশন নির্ধারিত খসড়া ফরমে কর্মী-সদস্যদের কাছ থেকে, কার্যনির্বাহী-উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের কাছ থেকে, কুপনের মাধ্যমে বিশেষ কোনো চাঁদা এবং অন্যান্য চাঁদা আদায়ের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফি আদায়ের েেত্র সভা-কাউন্সিল অধিবেশন উপল,ে ডেলিগেটদের কাছ থেকে, সাংগঠনিক কার্যক্রম উপলে এবং বিশেষ কোনো কুপন বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক অনুদান গ্রহণ, নির্বাচনের সময় প্রার্থী, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রাপ্ত অনুদান, দলের পত্রিকা-পুস্তিকা বিক্রি থেকে আয়, নিজস্ব ভবন ভাড়া, অন্যান্য সম্পত্তি থেকে আয়, দল থেকে ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা, সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন মেয়াদি আমানতসহ এসব আলাদাভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
ব্যয়ের েেত্র ওই নির্ধারিত ফরমে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়, বেতন, সম্মানী ও বোনাস প্রদান, অফিস ভাড়া, স্টেশনারি সামগ্রী ক্রয়, ইউটিলিটি চার্জ, সভা-সমাবেশ বাবদ ব্যয়, নির্বাচনী ব্যয়, কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে প্রার্থীদের অনুদান, ত্রাণ কার্যক্রম, ভ্রমণ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনুদান, আপ্যায়ন, মূলধন জাতীয় ব্যয় উল্লেখ করতে হবে।
