স্পোর্টস ডেস্ক ॥ দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়াকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন দলের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান। এবার ব্যাট হাতে ভূমিকায় ছিলেন জেমস প্যাটিনসন। তবে ডিআরএস পদ্ধতির আউটে শেষ পর্যন্ত মাঠে মারা যায় অসিদের সম্ভাবনা। অ্যাশেজ সিরিজে শুভ সূচনা করলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের জয়টি লড়াই শেষে ১৪ রানের। এতে দ্বিতীয় ইনিংসে ইয়ান বেলের সেঞ্চুরিতে মজবুত ইংল্যান্ডের পরে জয় নিশ্চিত হয় বোলিং তারকা জিমি অ্যান্ডারসনের পেস ঝড়ে। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় দফায়ও অ্যান্ডারসনের ৫ উইকেট শিকার। ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা পুরস্কারও অ্যান্ডারসনের। ক্রিকেট নাটকীয়তা এমনই। সম্ভাব্য জয়ের আশায় বিভোর ইংলিশরা মুহূর্তের পালাবদলে দুপুরের খাবার খেতে গেল পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে। দলীয় ২৩১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে তখন বলতে গেলে দিশাহারা অস্ট্রেলিয়া। জয় থেকে অসিরা তখনও ৮০ রান সুদূরে। কিন্তু এ সময় ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন অসি ১১ নম্বর প্যাটিনসন। ২৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে সিনিয়র পার্টনার ব্র্যাড হ্যাডিনের সঙ্গে গড়ে তুললেন গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রানের জুটি। প্রথম ইনিংসে অসি ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান অ্যাশটন অ্যাগার দেখান ৯৮ রানের ঝকঝকে নৈপুণ্য। এতে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রমোশন নিয়ে ৮ নম্বরে দেখা যায় অ্যাগারকে। ৭১ বল মোকাবিলায় অ্যাগারের ধৈর্যটা দেখা গেলেও এ দফা তার ব্যাটে রান আসে মাত্র ১৪। আর শেষ পর্যন্ত হ্যাডিন আর প্যাটিনসনের প্রতিরোধ ভেঙে জয় ছিনিয়ে নেয় ইংল্যান্ডই। তবে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের শেষটায় মন ভেঙে গিয়ে থাকবে অসি ক্রিকেট ভক্তদের। লাঞ্চের পর তৃতীয় ওভারে বল করছিলেন অ্যান্ডারসন। ব্যাট হাতে মোকাবিলায় হ্যাডিন। চতুর্থ বলটি হ্যাডিনের ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক প্রায়রের হাতে জমা পড়ে। আউটের আবেদন করেন প্রায়র। আম্পায়ার আলিম দার তাতে সাড়া না দিলে ডিআরএস পদ্ধতিতে তৃতীয় আম্পায়ারের শরণাপন্ন হয় ইংলিশরা। টিভি রিপ্লে দেখে তৃতীয় আম্পায়ার দণি আফ্রিকার এরাসমাস আউটের সিদ্ধান্ত দিলে আনন্দে লাফিয়ে উঠেন ইংলিশ খেলোয়াড়রা। সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ১-০তে।
ত্রি-চক্রে অস্ট্রেলিয়া
শনিবার ম্যাচের চতুর্থ দিন ১ উইকেটে ১১১ এবং তিন উইকেটে ১২৪ রান নিয়েও ফেভারিটই দেখাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু অসিদের সম্ভাবনাটা অসাধারণ নৈপুণ্যসাপে হয়ে ওঠে দিনের একবারে শেষ ভাগে ত্রি-চক্রে পড়ে। দিনের শেষ ৩ ওভারে ৩ রানে ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এর এক উইকেট ছিল অসিদের ভরসা মাইকেল কার্কের। এতে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে দলের নৈপুণ্যে জাদুর দরকার হয় অসিদের। প্রথম ইনিংসে দলের ব্যাটিং ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ৯৮ রানের ঝকঝকে নৈপুণ্য দেখান অভিষেক তারকা অ্যাগার। দ্বিতীয় দফায় তেমন কিছুই দেখাচ্ছিলেন হ্যাডিন-প্যাটিনসনরা। তবে ম্যাচের শেষ দিনেও ফের ত্রি চক্রে অস্ট্রেলিয়া। ৬ উইকেটে ২০৭ রান নিয়ে অসিরা তখন অনেকটাই গোছালো। কিন্তু এ সময় স্বল্প ব্যবধানে পরপর ৩ অসি উইকেট তুলে নিলেন জেমস অ্যান্ডারসন। এতে অসিরা স্লিপে তুলে দিলেন ৩ ক্যাচ। আর নিপুণ দতায় এ ৩ ক্যাচই তালুবন্দি করেন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। এতে ট্রেন্ট ব্রিজে রান তাড়া করে জয়ের ৯ বছর আগের রেকর্ডটিও থেকে গেল বহাল। নটিংহ্যামের মাঠে ৩০০ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। সর্বশেষ ২০০৪’র সফরে স্বাগতিকরা নিউজিল্যান্ডকে হারায় এখানে সর্বাধিক ২৮৪ রান তাড়া করে।
ইংল্যান্ডের নাটকীয় জয়
আপডেট :July 15, 2013
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
