বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ছয় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ধীর গতিতে চলছে বলে মনে করে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। যুদ্ধাপরাধে জড়িত সংগঠনগুলোর বিচার করতে ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রশ্নও উঠেছে। এদিকে মামলার বিচারে গতি আনতে বিচারিক আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করেন তদন্ত সংস্থার প্রধান।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত ছয় শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হয়েছে। আপিল মামলা চলার সময় মারা গেছেন আরো দু’জন।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে আমরা লক্ষ্য করছি ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে এক ধরনের মন্থরতা দেখা যাচ্ছে। এটা কখনই আমাদের কাম্য ছিল না। কয়েকটি আপিলের শুনানি একরকম স্থগিত হয়ে গেছে। পাকিস্তানিদের বিচার করতে গেলে, সংগঠনের বিচার করতে গেলে ট্রাইব্যুনালে আরও দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে। সুপ্রিমকোর্টে মামলাজট যদি থাকে সেজন্য আমরা সরকারকে বারবার বলছি ট্রাইব্যুনালের মধ্যে একটা আপিল বিভাগের ব্যবস্থা করুন। পৃথিবীর সব দেশে তাই হয়’।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এ পর্যন্ত তিন হাজার ৬৬৩ জনের বিরুদ্ধে ৬৯১ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এখনো প্রতি মাসে নতুন নতুন অভিযোগ নিয়ে আসছেন ভুক্তভোগীরা। তদন্ত সংস্থা ৪৮টি অভিযোগের তদন্ত শেষ করেছে, ২৭টির চলছে তদন্তকাজ।
দুটি ট্রাইব্যুনালের একটির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় এখন সব মামলার বিচার হচ্ছে এক ট্রাইব্যুনালে। এতে ১০টি মামলার বিচার চলছে। এর আগে ২৭টি মামলার রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। এগুলোর ১৭টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবী প্যানেল ও তদন্ত সংস্থা গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইতিহাসের দায় শোধের পালা।
সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট টিভি
