স্টাফ রিপোর্টার ॥
দেশীয় জঙ্গি সংগঠনই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ জঙ্গিদের বহনকারী প্রিজন ভ্যানে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
সোমবার (০৬ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে আইএস বা আল-কায়েদার মতো বিদেশি কোনো জঙ্গি সংগঠন নেই। দেশীয় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন কখনো জেএমবি, কখনো আনসারুল্লাহ বাংলা টিম আবার কখনো হরকাতুল জিহাদসহ বিভিন্ন নামে আত্মপ্রকাশ করে। এসব জঙ্গি সংগঠনেরই কোনো সদস্য মুফতি হান্নানসহ অন্য জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ককটেল নিক্ষেপকারীকে আমাদের পুলিশ সদস্যরা জীবনবাজি রেখে আটক করেছে। এক্ষেত্রে তারা কোনোরকম কর্তব্য অবহেলা করেনি। তারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের বহনকারী প্রিজন ভ্যানে ককটেল হামলার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী নেপথ্য কারণ উদঘাটনে কাজ করছে। আটককৃত যুবকের কাছ থেকে এরইমধ্যেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। এসব বিষয়গুলো তদন্তের পর বলতে পারবো তার উদ্দেশ্য কী ছিল। শুধু তাই নয়, এর নেপথ্যে কারা জড়িত, কার ইন্ধন ছিল এবং কে মদত দিয়েছে এগুলোও তদন্তে বেরিয়ে আসবে’।
সাম্প্রতিক কয়েকটি গুপ্ত হত্যায় দায়ী উগ্রপন্থী ইসলামী সংগঠন ‘আনসার-আল ইসলাম’ নিষিদ্ধের একদিন পরেই শীর্ষ জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ জঙ্গিদের বহনকারী প্রিজন ভ্যানে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর সঙ্গে ‘আনসার-আল ইসলাম’ নামক নিষিদ্ধকৃত জঙ্গি সংগঠনটির কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কীনা এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনসার-আল ইসলাম আগে থেকেই জঙ্গি সংগঠন। এরা অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কীনা এটা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।
আর কতটি জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধের পাইপ লাইনে রয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোপূর্বেই জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), শাহাদাৎ-ই আল-হিকমা, হিযবুত তাহরীর ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে এবং সর্বশেষ আনসার-আল ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গি সংগঠনের হদিস নেই। নতুন করে আর কোনো জঙ্গি সংগঠনের হদিস মিললে সঙ্গে সঙ্গেই তাদের নিষিদ্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদেশে কোনো জঙ্গি সংগঠন থাকতে পারবে না। আমরা অবশ্যই তাদের নির্মূল করবো’ দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে থাকেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
সফলতার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা এ মন্ত্রী আবারও উচ্চারণ করেন, এদেশের মানুষ ধার্মিক তবে ধর্মান্ধ নয়। তিনি বলেন, এদেশের মানুষ ভালো হৃদয়ের অধিকারী। তারা বন্ধুবৎসল। একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ায়।’
মন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, আমি বিশ্বের বহু দেশ ঘুরেছি। বাংলাদেশের মতো ভালো মানুষ বিশ্বের খুব কম দেশেই আছে। এরা ধর্মকর্ম যেমন করে সামাজিকতাও তেমনভাবে করে।
